কোর্স রিভিউ করে নতুন প্রযুক্তি ও সমসাময়িক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে

অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য কারিকুলামে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে? অ্যাক্রেডিটেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কারিকুলামকে আন্তর্জাতিক মান ও বর্তমান শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

সে কারণে আমরা আউটকাম বেজ এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতিকে আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেছি। কারিকুলামে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতেকলমে শেখা, প্রজেক্টভিত্তিক কাজ, সমস্যা সমাধান এবং টিমওয়ার্কের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে কোর্স রিভিউ ও আপডেটের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও সমসাময়িক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্টে কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

শিক্ষার মান উন্নয়নে দক্ষ ও আপডেটেড ফ্যাকাল্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য শিক্ষক উন্নয়নকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ওবিই বিষয়ক ট্রেনিং, গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কনফারেন্সে সম্পৃক্ততা এবং আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে নিয়মিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষকরা শুধু জ্ঞান প্রদানকারী নন, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টর ও গবেষণার পথপ্রদর্শক হিসেবেও ভূমিকা রাখুন।

শিক্ষার্থীদের জন্য এর সরাসরি কী কী সুবিধা তৈরি হবে?

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি পাবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায়। এছাড়া শিক্ষার্থীরা এমন একটি শিক্ষা পরিবেশে পড়াশোনা করছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তাদের দক্ষতা গড়ে তোলা হচ্ছে।

এ অর্জনের ফলে গবেষণা ও উদ্ভাবনে কী ধরনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে?

আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন শুধু শিক্ষার মানের স্বীকৃতি নয়, এটি গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। কারণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা এবং শিল্প খাত বেশি আগ্রহী হয়। এর ফলে যৌথ গবেষণা, গবেষণা অনুদান, আন্তর্জাতিক প্রকল্প এবং প্রযুক্তি উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বাস্তব সমস্যানির্ভর গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক গবেষণার সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে। আমরা চাই আইইউবিএটিতে এমন একটি গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে উঠুক, যেখানে শুধু একাডেমিক প্রকাশনা নয়, বরং গবেষণার ফল বাস্তব জীবনে ও শিল্প খাতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।

আরও