ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রথমবারের মতো সমাজবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো সমাজবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৫।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও সোশিওলজি রিসার্চ অ্যান্ড রাইটিং ক্লাব যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে। এ প্রতিযোগিতা শুধু ঢাবি নয়, দেশের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করেছে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। সাধারণত একাডেমিক প্রতিযোগিতা ঢাবির অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ফলে প্রথমবারের মতো একটি জাতীয় প্লাটফর্মে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিলিত হলেন। প্রতিযোগিতায় ছিল একক ও দলীয় উভয় রাউন্ড। প্রশ্নপত্রে উঠে আসে সমাজতত্ত্বের মৌলিক তত্ত্ব, সমকালীন বাংলাদেশ, বৈশ্বিক সামাজিক সমস্যা ও তার সমাধানের দৃষ্টিভঙ্গি। প্রতিটি রাউন্ডেই শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন করেন তাদের বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা, গবেষণার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগী ফারহান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অংশ নেয়া আমার জন্য গর্বের। পাঠ্যবইয়ের বাইরে সমাজতত্ত্বকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে। মনে হচ্ছে, এ আয়োজন আমাদের চিন্তাকে নতুন জানালা খুলে দিয়েছে।’

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের প্রতিটি সেগমেন্টে শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন করেছেন নিজেদের প্রতিভা। প্রবন্ধ লেখা, কুইজ, দলীয় বিতর্ক ও কেস স্টাডি প্রেজেন্টেশন সব মিলিয়ে জমে ওঠে প্রতিযোগিতা। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হয় মেডেল, সার্টিফিকেট ও মোট ৫০ হাজার টাকার প্রাইজমানি। প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে দেয়া হয় সার্টিফিকেট। আয়োজকরা জানান, এ স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও পেশাগত জীবনে অতিরিক্ত মূল্য যোগ করবে। এক বিজয়ী শিক্ষার্থী আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পাওয়া আমার জীবনের বড় অর্জন। এটি আমাকে ভবিষ্যতে গবেষণার পথে আরো অনুপ্রাণিত করবে।’

সোশিওলজি রিসার্চ অ্যান্ড রাইটিং ক্লাবের আহ্বায়ক মো. আব্দুল আহাদ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো সোশিওলজি অলিম্পিয়াড আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহী করবে এবং তাদেরকে সমাজ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে। আমরা আশাবাদী, এ ধরনের সৃজনশীল প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ অন্য সব বিভাগের জন্য এক অনন্য রোল মডেল হয়ে উঠবে।’

ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, ‘সমাজবিজ্ঞান কেবল পাঠ্যপুস্তকের বিষয় নয়, বরং এটি সামাজিক সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার হাতিয়ার। এ অলিম্পিয়াড তরুণদের বাস্তব সমস্যার দিকে মনোযোগী করবে। জাতীয় পর্যায়ে সমাজতত্ত্ব শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় প্লাটফর্ম। এখান থেকে তৈরি হবে এমন গবেষক ও চিন্তাবিদ, যারা ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারবেন।’ আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী বছর থেকে এ অলিম্পিয়াড আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমাজবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আরও