কর্মসংস্থানমুখী ও গুণগত উচ্চশিক্ষায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

একদিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন বাস্তবতা; অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির প্রশ্ন। এ প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য আর কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষ, নৈতিক ও কর্মসংস্থান উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যে কয়টি বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পিত ও কাঠামোগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি তাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নাম।

বর্তমান বিশ্বে চাকরির বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডেটা অ্যানালিটিকস ও ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রচলিত অনেক পেশার ধরন বদলে দিয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এ পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম ও শিক্ষণ পদ্ধতিকে আধুনিক করা। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই এ বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মোপযোগী পাঠ্যক্রম কারিকুলাম প্রণয়নে জোর দিয়েছে। এখানে পাঠ্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়, যাতে শিল্প খাত ও চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার দূরত্ব কমে আসে।

শিক্ষার গুণগত মান নির্ভর করে অনেকাংশে শিক্ষকের ওপর। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকের মান উন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। যোগ্যতা, গবেষণা সক্ষমতা ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং একাডেমিক ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়। এর ফলে শিক্ষকরা কেবল পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং গবেষণা, বিশ্লেষণ ও বাস্তব উদাহরণভিত্তিক পাঠদান করতে সক্ষম হন।

গবেষণা ও উদ্ভাবন উচ্চশিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ। এ উপলব্ধি থেকেই প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি গবেষণার জন্য আলাদা তহবিল, রিসার্চ সাপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার জন্য প্রণোদনা প্রদান করে থাকে। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও গবেষণামুখী করে তুলতে যৌথ গবেষণা প্রকল্পে উৎসাহ দেয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষের বাইরের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সমাধান প্রস্তাবের দক্ষতা অর্জন করে, যা কর্মজীবনে অত্যন্ত কার্যকর।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিল্প সংযোগকে শক্তিশালী করতে ক্যারিয়ার সার্ভিস অফিস, জব ফেয়ার, ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম এবং শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন আয়োজন করে। শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পায় এবং নিজেদের দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে সফট স্কিল, কমিউনিকেশন, টিমওয়ার্ক ও লিডারশিপ উন্নয়নে আলাদা গুরুত্ব দেয়া হয়।

পঠন-পাঠন ও শিক্ষন পদ্ধতির ওপর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস ও অন্যান্য প্রোগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, সাইবার সিকিউরিটি ও অটোমেশন-সম্পর্কিত কোর্স সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা ও সিমুলেশন অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতেকলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিকীকরণ আজকের উচ্চশিক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি একাধিক বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এক্সচেঞ্জ, যৌথ গবেষণা এবং কারিকুলাম উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে এবং গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথ সুগম করে।

একই সঙ্গে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি একাডেমিক স্বাধীনতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। এখানে প্রশ্ন করা, মত প্রকাশ এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনা উৎসাহিত করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্লাব, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও নেতৃত্বমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে নিজস্ব সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশের সুযোগ পায়।

সবশেষে বলা যায়, কর্মসংস্থানমুখী ও গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে হতে হয় দূরদর্শী, দায়িত্বশীল ও বাস্তবমুখী। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি সেই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সমন্বিত পথচলায় এগিয়ে যাচ্ছে। একটি দক্ষ, নৈতিক ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল অঙ্গীকার।

প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির: প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি

আরও