ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৩.৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, খরচ কমাবে ২৫ শতাংশ

দেশের উচ্চশিক্ষায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনন্য নজির স্থাপন করল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)।

সম্প্রতি প্যারামাউন্ট সোলারের সঙ্গে ৩ দশমিক ৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি ‘ওপেক্স’ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) স্বাক্ষর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোগ, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ডিআইইউর দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

এ প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ব্যবসায়িক মডেল। ‘ওপেক্স’ মডেলের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা, অর্থায়ন, স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব পালন করবে প্যারামাউন্ট সোলার। বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো প্রাথমিক মূলধনি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না; বরং উৎপাদিত পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ একটি নির্ধারিত মূল্যে তারা কিনে নেবে। এতে বড় কোনো বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই সৌরবিদ্যুতের সুফল ভোগ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

৩ দশমিক ৪ মেগাওয়াটের এ প্লান্টটি দিনের বেলা একাডেমিক ভবন, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি এবং প্রশাসনিক কার্যালয়গুলোর বিদ্যুতের বড় একটি অংশ সরবরাহ করবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং জ্বালানি সংকট বা লোডশেডিংয়ের সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বা নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে সুরক্ষা দেবে এ দীর্ঘমেয়াদি স্থির মূল্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

এ প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি জীবন্ত ল্যাবরেটরি। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সরাসরি এখান থেকে হাতেকলমে শিক্ষা নিতে পারবেন। সোলার পিভি ডিজাইন, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস, গ্রিড ইন্টিগ্রেশন এবং এনার্জি ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয়গুলো এখন আর বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখান থেকে পাওয়া রিয়েল-টাইম ডাটা ব্যবহার করে শিক্ষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডাটা অ্যানালিটিক্স এবং ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করতে পারবেন, যা আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে আরো সুসংহত করবে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এ পদক্ষেপ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি (লক্ষ্যমাত্রা-৭), গুণগত শিক্ষা (লক্ষ্যমাত্রা-৪), শিল্প ও উদ্ভাবন (লক্ষ্যমাত্রা-৯) এবং জলবায়ু সুরক্ষা (লক্ষ্যমাত্রা-১৩) অর্জনে এটি একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রকৃত ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে এ ৩ দশমিক ৪ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্প একটি ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাটারি স্টোরেজ, ইলেকট্রিক যানবাহন চার্জিং স্টেশন এবং কার্বন নিউট্রালিটি স্ট্র্যাটেজি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাসুম ইকবাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস করা। এ ব্যবস্থায় দিনে সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ ব্যয় প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা সম্ভব হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড হ্রাস পাবে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য আরো বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এটি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ প্রযুক্তি বিষয়ে আরো সচেতন করে তুলবে।’

আরও