এই স্বপ্ন আর লক্ষ্যকে বুকে ধারণ করেই পথ চলছে ‘ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি আর্থকেয়ার ক্লাব’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই সংগঠনের একদল উদ্যমী তরুণ।
শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে ক্লাবটি। এর মধ্যে অন্যতম হলো তাদের নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকাকে সবুজে ছেয়ে ফেলার লক্ষ্যে তারা শুধু গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সেই গাছের পরিচর্যা ও প্রকৃতির প্রতি শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার কাজটিও করছে পরম যত্নে। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনাকে পরিবেশবান্ধব করতে ক্লাবের আরেকটি নিয়মিত আয়োজন হলো ‘সবুজ সংলাপ’। প্রতি মাসে আয়োজিত এই ঘরোয়া ও উন্মুক্ত আলোচনায় স্থান পায় জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমসাময়িক নানা পরিবেশগত সংকট। এই সংলাপের মূল সৌন্দর্য হলো—এখানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে পরিবেশ রক্ষার নতুন নতুন দারুণ সব আইডিয়া।
ক্লাবটির সভাপতি সেলিম হোসেন তামীম বলেন, ‘প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্লাব কার্নিভাল’-এ অবধারিতভাবেই নজর কাড়ে আর্থকেয়ার ক্লাবের স্টল। নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের সবুজ দর্শন ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতে আমাদের ক্লাবের সদস্যরা কাজ করছেন। প্রতি সেমিস্টারেই একঝাঁক নতুন স্বপ্নবাজ তরুণ যুক্ত হন সবুজের এই মিছিলে।
পরিবেশ বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক ও তাত্ত্বিক জ্ঞানচর্চাকে সমৃদ্ধ করতে ক্লাবটি নিয়মিত আয়োজন করে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার। দেশের প্রখ্যাত শিক্ষক, গবেষক এবং পরিবেশবিদদের উপস্থিতিতে এসব সেমিনারে জলবায়ু সংকট, পরিবেশ আইন, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়। শুধু গুরুগম্ভীর সেমিনারই নয়, শিক্ষার্থীদের বিনোদনের মাধ্যমে শেখাতে তারা আয়োজন করে পরিবেশভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, যা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তৈরি করে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার আমেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী বলেন, প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্থকেয়ার ক্লাব কেবল একটি সাধারণ সংগঠন হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে একটি সফল সবুজ আন্দোলনের প্রতীকে। তাদের প্রতিটি উদ্যোগ বারবার মনে করিয়ে দেয়—পরিবেশ রক্ষা শুধু রাষ্ট্র বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একার দায় নয়, এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।’