‘হিট অ্যাডাপটিভ আর্কিটেকচার ডিজাইন কম্পিটিশন (HAAD)’-এর উদ্বোধনী আসরে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করে বৈশ্বিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। সম্প্রতি প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট ক্লাইমেট সেন্টার, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশন এবং গ্লোবাল ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টার।
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী মাইনুল হাসান সীয়াম, জাহরা জারিন জেমি এবং সাকিব নাসির খানের সমন্বয়ে গঠিত দলটি বিশ্বের শীর্ষ ফাইনালিস্টদের মধ্যে স্থান করে নেয়। পাশাপাশি সভাগ্য শরীফ শাম্মো, মাইনুল হাসান সীয়াম এবং জাহরা জারিন জেমির আরেকটি দল এ প্রতিযোগিতায় রানারআপ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক ও পৃষ্ঠপোষক স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ, যার দূরদর্শী একাডেমিক নেতৃত্ব ও গবেষণাভিত্তিক দিকনির্দেশনা পুরো প্রক্রিয়ায় দলকে তত্ত্বাবধান করেন। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় ধাপে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড় কাজের অংশ হিসেবে নটিংহাম রাইটস ল্যাবের ড. জর্জ ফোডেন দলের মেন্টর হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
২০২৫ সালে শুরু হওয়া এ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় স্থাপত্য ও নগর নকশা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানানো হয় চরম তাপপ্রবাহ মোকাবেলায় উদ্ভাবনী, সাশ্রয়ী এবং বাস্তবসম্মত নকশা সমাধান উপস্থাপনের জন্য—বিশেষত অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য। কঠোর দুই ধাপের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রস্তাবগুলো সৃজনশীলতা, প্রেক্ষিত-সংবেদনশীলতা এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতার ক্ষেত্রে অনন্য মানদণ্ড স্থাপন করে।
বুয়েট দলের প্রস্তাবটি প্রেক্ষিতভিত্তিক নকশা কৌশলের মাধ্যমে নগর তাপজনিত সংকট মোকাবেলায় একটি কার্যকর মডেল উপস্থাপন করে, যেখানে প্যাসিভ কুলিং প্রযুক্তি, উপকরণগত উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি-কেন্দ্রিক স্থানিক সমাধান সমন্বিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জলবায়ু বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের চ্যালেঞ্জগুলোকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
এ অর্জন জলবায়ু-সংবেদনশীল স্থাপত্য গবেষণা ও উদ্ভাবনে বুয়েটের অগ্রগণ্য অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করেছে এবং টেকসই ও সহনশীল নির্মিত পরিবেশ নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় বাংলাদেশের উপস্থিতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রতিযোগিতার ফলাফল এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্লাটফর্ম, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক এবং একাডেমিক ফোরামে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। নির্বাচিত নকশাগুলো থ্রিডি প্রিন্ট করে কপ-৩১সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে এবং রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের ১৯১টি জাতীয় সংস্থা ও গ্লোবাল হিট হেলথ ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হবে।
বুয়েট কর্তৃপক্ষ এ অসামান্য সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে এ ধরনের বৈশ্বিক প্লাটফর্মের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।