এ বর্জ্যকেই এবার বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের শিল্প উপকরণে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)।
অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি গবেষণা দল সম্প্রতি ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান পেয়েছে। অনুদানটি এসেছে বাংলাদেশ ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচির আওতায়, যা স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের অংশ। বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে সারা দেশ থেকে ১৩২টি গবেষণা প্রস্তাব জমা পড়েছিল। কঠোর কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের পর মাত্র ১২টি প্রকল্প চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়, আর সেই বাছাইয়ে স্থান পাওয়া বিইউএফটির এ প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা সক্ষমতার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
Sustainable Valorization of Cotton Waste into High-Value Cellulose-Based Products for Green Industrial Applications —এ শিরোনামের প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে তৈরি হওয়া ফ্যাব্রিক কাটিং স্ক্র্যাপ, স্পিনিং বর্জ্য ও কটন কনের মতো সেলুলোজসমৃদ্ধ উপকরণকে পরিবেশবান্ধব সংশ্লেষণী রসায়নের মাধ্যমে মূল্যবান শিল্প পণ্যে পরিণত করা। গবেষণায় এ বর্জ্য থেকে সেলুলোজ নিষ্কাশন, পরিশোধন এবং সংশ্লেষণের পর যে উপাদানগুলো তৈরি হবে, তার সম্ভাব্য প্রয়োগ রয়েছে বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং, শিল্প আবরণ, কম্পোজিট উপকরণ, ফাংশনাল ফিল্ম এবং উন্নত টেক্সটাইল ফিনিশিং প্রযুক্তিতে।
১২ মাস মেয়াদি এ প্রকল্পে শিল্প সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডেনিম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শাশা ডেনিম পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কটন বর্জ্য গবেষণায় সরবরাহ করবে এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল শিল্প পর্যায়ে পরীক্ষার সুযোগ করে দেবে। একাডেমিয়া ও শিল্পের এ যুগলবন্দি গবেষণাকে কেবল তাত্ত্বিক কাঠামোয় আটকে না রেখে বাস্তব প্রয়োগের দিকে এগিয়ে নেয়ার পথ তৈরি করেছে।
গবেষণার ধাপগুলো পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে—বর্জ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সেলুলোজ নিষ্কাশন, ডেরিভেটিভ সংশ্লেষণ, প্রোটোটাইপ উন্নয়ন এবং সবশেষে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন পর্যন্ত। গবেষণা সম্পন্ন হলে শিল্প খাতে প্রযুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ টেকনোলজি ট্রান্সফার প্যাকেজ তৈরি করা হবে।
প্রকল্প প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেক্সটাইল বর্জ্যকে মূল্যবান উপকরণে রূপান্তর করা গেলে তা পরিবেশ সুরক্ষা ও শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর অনেক চাহিদা রয়েছে।’
বিইউএফটি উপাচার্য (ডেজিগনেটেড) অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান বলেন, ‘এ অনুদান অর্জন শুধু একটি গবেষণার সাফল্য নয়—এটি দেশের টেক্সটাইল গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং বিইউএফটিকে বৈশ্বিক পরিবেশবান্ধব শিল্প গবেষণার মানচিত্রে স্থায়ীভাবে স্থান দেবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ গবেষণার সাফল্য বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে সার্কুলার ইকোনমি বাস্তবায়নের নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। শিল্প বর্জ্য কমানো, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের দেশীয় বিকল্প তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—এ তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণের সম্ভাবনা রাখে প্রকল্পটি।