বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন উন্নয়ন
প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চীন প্রস্তত বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত
ইয়াও ওয়েন। আজ বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে
মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাণিজ্য
ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে মেগা প্রকল্পগুলো
বাস্তবায়নে চীন আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
চীন বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন
উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে প্রস্তত বলে জানান তিনি। বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য
ব্যবধান কমাতে চীন ৯৮ ভাগ পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে। বাংলাদেশ-চায়না
ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট করতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে।
বাংলাদেশে স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের
বিষয়ে চীন খুবই আগ্রহী। আগামী নভেম্বর মাসে চীনের সাংহাইতে অনুষ্ঠিতব্য চায়না ইমপোর্ট
ফেয়ারে বাণিজ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, মার্চে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ
সামিটে চীন গুরুত্ব দিয়ে অংশগ্রহণ করবে। আগামীতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আরো বাড়বে।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন
কর্মকাণ্ড তথা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন অনেক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ
চীনের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আরো চীনা বিনিয়োগ প্রত্যাশা
করছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবধান অনেক বেশি। চীনে রফতানি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে
চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশের বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে
বিনিয়োগ করেছেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান বেশ ভালো। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের
উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প কল-কারখানা স্থাপন খুবই প্রয়োজন এবং এখানে বিনিয়োগ লাভজনক
হবে।
টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের, চামড়া, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিনিয়োগ খুবই সম্ভবনাময়। ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ খাতে বিনিয়োগ চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশ এ খাত থেকে ৫০০ কোটি ডলার রফতানির প্রস্তুতি নিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ
এলডিসি গ্রাজুয়েশন করবে, তখন বিভিন্ন দেশ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেতে পিটিএ বা এফটিএর
মতো বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অনেক পণ্য
চীন থেকে আমদানি করতে হয়, এ খাতে আমাদের রফতানি বাড়ছে। সংগত কারণেই আমাদের তৈরি পোশাক
পণ্যের প্রয়োজনীয় মালামাল আমদানিও বাড়বে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২০২১-২০২২
অর্থ বছরে বাংলাদেশ চীনে রফতানি করেছে ৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের
পণ্য, একই সময়ে চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে ২ হাজার ৬২৫ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যের
পণ্য।