চার দফা বন্যায় সিরাজগঞ্জে কৃষিতে ক্ষতি ২৩২ কোটি টাকা

সিরাজগঞ্জে দফায় দফায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি ও রাস্তাঘাট। জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বন্যায় জেলায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। এ নিয়ে টানা চার দফা বন্যায় জেলার কৃষি খাতে ২৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সব শেষ চতুর্থ দফা বন্যায় কৃষিতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

সিরাজগঞ্জে দফায় দফায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি ও রাস্তাঘাট। জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বন্যায় জেলায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। এ নিয়ে টানা চার দফা বন্যায় জেলার কৃষি খাতে ২৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সব শেষ চতুর্থ দফা বন্যায় কৃষিতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া এ ছয় উপজেলার ৬০টি ইউনিয়ন তলিয়ে যায়। এর মধ্যে ৪১টি ইউনিয়ন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। নষ্ট হয়ে যায় প্রায় সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমির ফসল। বন্যায় রোপা আমন, আউশ, পাট ও সবজির বীজতলাসহ ২৫ হাজার ২২৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে বেশি ক্ষতি হয় ব্রি-আমন, পাট, আউশ, তিল মাষকলাই ও বিভিন্ন সবজির বীজতলা। এর মধ্যে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার কৃষক পরিবার। টাকার অংকে মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে চার দফা বন্যায় জেলার ৩৬৭ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ কোটি টাকা।

কাজীপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া চরের চাষী রহিম মিয়া জানান, তিন দফা তলিয়ে যাওয়ার পর সরকার থেকে প্রাপ্ত রোপা আমন আর গাইনজা ধানের চারা লাগিয়েছিলাম । চতুর্থ দফা বন্যায় তার তিন বিঘা জমির রোপা আমন ও গাইনজা ধানের খেতও পানিতে তলিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় জেলায় প্রায় ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মেরামতে কমপক্ষে ২৬ কোটি টাকা লাগবে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা আমরা দ্রুত সংস্কার শুরু করেছি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, বন্যায় জেলায় রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলতি বন্যায় জেলায় মোট ২৭৪ কিলোমিটার গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সড়কগুলোয় যে ক্ষতি হয়েছে, মেরামত বাবদ অন্তত ৬১ কোটি টাকা লাগবে। মেরামতের জন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

তিনি আরো বলেন, এখনো সব জায়গা থেকে পানি না নামায় সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হানিফ বণিক বার্তাকে বলেন, চতুর্থ দফা বন্যায় জেলার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরপর বন্যায় জেলার ২৫ হাজার ২২৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার কৃষক পরিবার। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতের ক্ষতির পরিমাণ ২৩২ কোটি ৪০ লাখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষতি আরো বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পাঁচ হাজার কৃষককে মাষকলাইয়ের বীজ ও সার, প্রায় ১ হাজার ৩০০ কৃষককে ধানের চারা দেয়া হয়েছিল। শেষবারের বন্যায় রোপণ করা ফসলও তলিয়ে গেছে। কৃষির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি প্রণোদনা প্রদানসহ বাড়তি ফসল চাষে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে এবং কৃষকদের সেই মোতাবেক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

আরও