বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা হরতালে অচল হয়ে পড়েছে সড়কপথ। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যানবাহন বন্ধ থাকায় কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীসহ সবাইকে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ রোগী বহনকারী যানবাহন ছিল হরতালের আওতামুক্ত।
পূর্ব নির্ধারিত সময় রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া, কাটাখালি, মোল্লাহাট সেতু, বাগেরহাট পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফয়লা, মোংলা বাসস্ট্যান্ডসহ জেলার অন্তত দশটি স্থানে সড়কের ওপর গাড়ি ও বেঞ্চ রেখে অবরোধ করছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা। এতে বাগেরহাট জেলার সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী ও দোকানদাররাও দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন।
তবে এ হরতাল-অবরোধে বিপাকে পড়েছেন জরুরি কাজে বাইরে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। খুলনা থেকে মোড়েলগঞ্জের কালিকাবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মোহাম্মদ মোল্লা জানান, তিনি অসুস্থ অবস্থায় ভোরে খুলনা থেকে বের হলেও হরতালের কারণে একাধিকবার গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।
একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার বলেন, খুলনা সিটি কলেজে আমার পরীক্ষা। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে ধাপে ধাপে বাধা অতিক্রম করে বাগেরহাট নতুন কোর্ট পর্যন্ত আসছি। এখন সাড়ে ১০টা বাজে, অথচ এখনো বাগেরহাট ছাড়তে পারিনি।
আঞ্চলিক সড়কে কিছু অটোরিকশা ও ভ্যান চললেও বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামাতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস বলেন, বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। নির্বাচন কমিশন এখনো প্রস্তাব থেকে ফিরে আসেনি। যার কারণে আমরা আজকে সর্বত্র অবরোধ ও হরতালের ডাক দিয়েছি। জেলার সর্বস্তরের জনগণ আমাদের দাবির স্বপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
গেল ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দিলে জেলায় সর্বদলীয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়। এই প্রস্তাব বাতিল ও চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।