রাবি শিক্ষকদের নিয়ে ছাত্রদল নেতার অশালীন মন্তব্য, চারিত্রিক সনদ বাতিল

একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তে বলা হয়— বুলবুল রহমানকে উর্দু বিভাগ থেকে তার প্রশংসাপত্র, চারিত্রিক সনদপত্র ও সকল প্রত্যয়নপত্র বাতিল করা হলো এবং ভবিষ্যতে বিভাগ থেকে তাকে কোনো প্রকার প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হবে না। উর্দু বিভাগে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীবকে জড়িয়ে উর্দু বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম ও প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করায় ছাত্রদল নেতার প্রশংসাপত্র ও চারিত্রিক সনদপত্র বাতিল করল উর্দু বিভাগ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় একাডেমিক কমিটিতে এমন সিদ্ধান্ত নেন বিভাগের শিক্ষকরা। এছাড়াও এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আইনি ব্যবস্থা নিতে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন একাডেমিক কমিটি।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হলেন বুলবুল রহমান। তিনি উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বর্তমান ছাত্রদলের রাবি শাখার সহ-সভাপতি।

এদিকে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষক হলেন, উর্দু বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম ও একই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দিন। তাদেরকে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন মন্তব্য করতে দেখা গেছে ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমানকে।

বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সূত্র থেকে জানা যায়, উর্দু বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বুলবুল রহমান যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও (বিজ্ঞপ্তির শর্ত ছিল সিজিপিএ ৩.৫০ পেতে হবে, কিন্তু তার অনার্সে প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৩৫) আবেদন করেন। বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ না করায় আবেদনপত্র বাছাইকালে তার আবেদন বাতিল হলে তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে বিভাগীয় সভাপতিসহ পরিকল্পনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, অসদাচরণ এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দেন।

এদিকে উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড বন্ধ করতে গত ১১ আগস্ট সিন্ডিকেট সভা চলাকালীন উপাচার্যের বাসভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন ছাত্রদলের এ নেতা। তার ফেসবুক পোস্ট ও হুমকির কারণে উর্দু বিভাগের শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তে বলা হয়— বুলবুল রহমানকে উর্দু বিভাগ থেকে তার প্রশংসাপত্র, চারিত্রিক সনদপত্র ও সকল প্রত্যয়নপত্র বাতিল করা হলো এবং ভবিষ্যতে বিভাগ থেকে তাকে কোনো প্রকার প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হবে না। উর্দু বিভাগে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো এবং ভবিষ্যতে তিনি বিভাগের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। শৃঙ্খলাবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অসত্য, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় পোস্ট করায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যের কাছে আহ্বান জানায় বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চারিত্রিক সনদ বাতিলের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে তারা মনগড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তো আর হবে না। আমাকে এ বিষয়ে কেউ ডাকেনি এবং কেউ জানতেও চায়নি। তবে আমি বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে পোস্ট দিয়েছি, তারা আমাকে মার্কস কম দিয়েছেন।' এছাড়াও একাডেমিক মিটিংয়ে সকল শিক্ষক উপস্থিতও ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষকদের নিয়ে এমন বাজে মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য না। অবৈধভাবে নিজের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে তিনি শিক্ষকদেরকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যা শুধু আমাদের জন্য নয়, বরং সকল শিক্ষকদের জন্য অবমাননাকর। আমরা প্রশাসন থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।’

আরও