ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৬৬৪টি। এর মধ্যে ৪৫১টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবশ্য স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এসব কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার সব ভোট কেন্দ্রই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তবে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার ১২টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুটি বীর ব্যাটালিয়ন এবং একটি ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের প্রায় ১ হাজার ১০০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তারা মূলত ভোট কেন্দ্রের বাইরে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন। জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিজিবির দুটি করে প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। প্রতি প্লাটুনে সাধারণত ২০-৩০ জন সদস্য থাকবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এ সংখ্যা কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
এছাড়া নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ কাজ করবে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য ৩ হাজার ৫০০ জন, আনসার ও ভিডিপি ১২ হাজার, গ্রাম পুলিশ ১ হাজার ২০০ জন কাজ করবেন। পাশাপাশি র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিকভাবে ভোট কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় টহলে নিয়োজিত থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও মোবাইল টিমের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এদিকে গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আমেজ লক্ষ করা গেলেও কোথাও কোথাও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আবু বসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৬৬৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।