কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: বন ও পরিবেশ মন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে দুটি মূলধন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। একটি হলো আর্থিক মূলধন, অপরটি সামাজিক মূলধন। যদি তা না থাকে, সেখানে কেউ আর্থিক বিনিয়োগ করে না। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা সেটিই এখন দাঁড়িয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকালে লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ সরকারি কার্যাবলির তদারকি ও সমন্বয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এক সময় রাস্তার দুপাশে বড় বড় ফ্যাক্টরি দেখা গেলেও এখন বাড়িঘর দেখা যায়, ফ্যাক্টরি তেমন একটা দেখা যায় না। বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করতে, যে পরিবেশে একজন আর্থিক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করবে। যদি বিনিয়োগ না করে, তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব নয়।

‎তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবছর গড়ে ২১ থেকে ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে চাকরির বাজারে আসতেছে। ১৯৮৩ সালে যখন ন্যাশনাল ব্যাংক হয়, তখন নতুন অফিসার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলে তাতে দরখাস্ত জমা হয়েছিল ১৬০০ জনের। সেখানে মাত্র ৪ জন মেয়ে প্রার্থী ছিল। কিন্তু বর্তমানে ১২০০ চাকরির আবেদনের বিপরীতে ৮০০ জনই থাকে মেয়ে। এটা একটি বিরাট সামাজিক পরিবর্তন।

পলিটিশিয়ান, সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল ও সাংবাদিকসহ সবাই এক হয়ে সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজের কাঠামোর পরিবর্তন আনতে হবে উল্লেখ করে ‎‎তিনি বলেন, এখন চলে এসেছে এআইয়ের মত প্রযুক্তি। তাই সমাজ পরিবর্তন ও প্রযুক্তির উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যদি সমাজকে পরিবর্তন না করি, তাহলে সে সমাজের পরিবর্তন কখনোই হবে না।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান এর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূইয়া, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও