দেশের মানুষ এখনো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিশ্বাস হারায়নি : মাসরুর আরেফিন

মাসরুর আরেফিন বলেন, আজ বা কাল মানুষ পরিবর্তন হবেই। বাঙালির ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আছে। এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ। মানুষ শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের সমন্বিত প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ ভালোবাসতে শুরু করবে। নাম যা’ই হোক না কেন। কারণ পেছনে রাষ্ট্রের ব্যাকআপ আছে, টাকা হারানোর সম্ভাবনা নেই।

সাধারণ মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিশ্বাস হারায়নি, এস আলমের ব্যাংকের ওপর হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, মানুষ আমাদের বিশ্বাস করছে। চলতি বছরের শুরু থেকে ৯ মাসে সিটি ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবে এ আমানত পেতে তিন বছর সময় লাগত। কিন্তু এটি সম্ভব হয়েছে ওই ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার কারণে। মানুষ আমাদের কাছে আসছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বনানীর হোটেল আমারিতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ব্যাংক ফেইলরস অ্যান্ড রেজুলেশন রিজিম: আন্ডারস্টান্ডিং দ্য চ্যালেঞ্জেস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাসরুর আরেফিন বলেন, আজ বা কাল মানুষ পরিবর্তন হবেই। বাঙালির ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আছে। এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ। মানুষ শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের সমন্বিত প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ ভালোবাসতে শুরু করবে। নাম যা’ই হোক না কেন। কারণ পেছনে রাষ্ট্রের ব্যাকআপ আছে, টাকা হারানোর সম্ভাবনা নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ৯১৮ কোটি টাকা মুনাফা করছে।

দেউলিয়া হওয়া পাঁচটি ব্যাংক সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, দুটি মৌলিক বিষয় রয়েছে আমানত ও পুঁজি। এ ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনে সরকারের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মানুষ পরিবর্তনশীল, মানুষের মনও পরিবর্তন হবে। যদি আমরা সঠিক কৌশল, ব্র্যান্ডিং, প্রচারণা ও ভাবমূর্তি নিয়ে হাজির হতে পারি মানুষ আবার এ ব্যাংকগুলোয় আমানত রাখতে শুরু করবে। তাহলে প্রথম যে সমস্যা আমানত, সেটির সমাধান হয়ে যাবে। কারণ বাংলাদেশ আর্থিক অগ্রগতির দেশ।মানুষের ব্যাংকের প্রয়োজন রয়েছে আবার ব্যাংকেরও মানুষের দরকার আছে।ফলে আমানত বাড়বে।

তিনি বলেন, একটি পত্রিকায় পড়লাম ব্যাংকখাতে তারল্য সংকট আছে। এটি একটি হাস্যকর ব্যাপার। বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। এতে বোঝা যায় কিছু ব্যাংক অনেক বেশি বিশ্বস্ত, আবার অনেক ব্যাংককে ক্যাশ কাউন্টার বন্ধ করতে হয়েছে। ২ দশমিক ৮৭ ট্রিলিয়ন টাকা সিস্টেমেই নেই। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কারণে অবশ্যই এ অর্থ সিস্টেমে আসতে হবে। যদি বিকাশ না থাকত, এ সংখ্যা হয়ত আরো বড় হতো। সুতরাং এমন ব্যবস্থাপনা দরকার যেটাতে মানুষ আশ্বস্ত হতে পারে।

আরও