দেশের কারাগারগুলোয় ঈদ করলেন ৬৩ হাজার বন্দি

দুপুরে সাত পদের বিশেষ খাবার

দেশের কারাগারগুলোতে ঈদুল আজহার দিনে বন্দি ছিলেন ৬৩ হাজার ১৮০ জন। পরিবার ছেড়ে থাকা এসব বন্দিদের জন্য পশু কুরবানি থেকে শুরু করে দিনভর ছিল নানা আয়োজন।

দেশের কারাগারগুলোতে ঈদুল আজহার দিনে বন্দি ছিলেন ৬৩ হাজার ১৮০ জন। পরিবার ছেড়ে থাকা এসব বন্দিদের জন্য পশু কুরবানি থেকে শুরু করে দিনভর ছিল নানা আয়োজন। সেই সঙ্গে ছিল সাত পদের বিশেষ খাবারের পরিবেশনা।

কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কারাগারের ভেতরের ময়দানে। পরে ঈদ উপলক্ষে কারাবন্দিদের জন্য ৯টি গরু ও ৬টি খাসি কোরবানি দেয়া হয়েছে। এবারের ঈদুল আজহায় কারাবন্দিদের জন্য ৯টি গরু কোরবানি দেয়া হয়েছে। এছাড়া গরুর পাশাপাশি ৬টি খাসি কোরবানি দেয়া হয়েছে। যেখানে প্রায় ১৫শ কেজি মাংস হবে। যা কারাগারের প্রায় ৮ হাজারের বেশি বন্দির জন্য রান্না করে তাদের পরিবেশন করা হবে। যেসব বন্দিরা গরুর মাংস খান না তাদের জন্য খাসির মাংস দেয়া হবে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, ঈদের দিন সারা দেশের কারাগারগুলোয় ৬৩ হাজার ১৮০ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে হাজতি বন্দি রয়েছেন ৪৪ হাজার ৮৪৫ জন। আর কয়েদি বন্দি রয়েছেন ১৮ হাজার ৩৩৫জন। বন্দিদের ঈদের দিনের সকাল শুরু হয়েছে মুড়ি পায়েস খাওয়ার মধ্যে দিয়ে। দুপুরে তাদের পরিবেশন করা হয়েছে সাত পদের খাবার। এর মধ্যে ছিল গরু গোশত ও খাসির মাংস, চিকেন রোস্ট, পোলাও, ছোলার ডাল, কোল্ড ড্রিংকস, চমচম এবং পান সুপারি। আর রাতে বন্দিদের পরিবেশন করা হয়েছে সাদা ভাত, রুই মাস এবং মুড়িঘন্ট। এছাড়াও বিশেষ এ দিনে বন্দিদের অনেকেই তাদের পরিবারের আনা খাবারও খেয়ে থাকেন।

 ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) ডেপুটি জেলার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) ৮ হাজারের বেশি বন্দিদের জন্য উন্নত খাবার রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন কারাগারে রান্না হওয়া খাবারের পাশাপাশি নিজের বাসাবাড়িতে রান্না করা খাবারও খেতে পারেন বন্দিরা।

এদিকে দিনভর বিশেষ খাবারের পাশাপাশি ছিল বন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঈদের নামাজের পরপরই সকালের দিকে বন্দিদের নিয়ে গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে বন্দিরা কৌতুক, গান, অভিনয় করে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। বিকালে বন্দিদের মাঝে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো ঈদে বন্দিদের জন্য দিনভর নানা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের খাবার এবং বন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যেগের মাধ্যমে বন্দিদের জন্য কারাগারকে বর্তমানে একটি সংশোধনাগারে পরিণত করা হয়েছে।

আরও