পদ্মার ভাঙনে হুমকির মুখে দোহারের মৈনটঘাট

ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনটঘাটসহ আশপাশ এলাকা পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাহ্রাঘাট থেকে মৈনটঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারব্যাপী এ ভাঙন শুরু হয়েছে।

ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনটঘাটসহ আশপাশ এলাকা পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাহ্রাঘাট থেকে মৈনটঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারব্যাপী এ ভাঙন শুরু হয়েছে। 

কয়েক দিনে পদ্মার ভাঙনে মিনি কক্সবাজারখ্যাত মৈনটঘাটের শতাধিক দোকান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। যেকোনো সময় ঢাকা-গুলিস্তান রুটের দুটি পরিবহন কোম্পানির কাউন্টার পদ্মায় বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে দোহারের মৈনটঘাটসহ পাশের এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ফলে মৈনটঘাট ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

এলাকাবাসী জানায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়। এ বছরও বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দেয়। তবে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলের প্রভাবে দেশের অন্যান্য নদ-নদীর মতো পদ্মায়ও হঠাৎ পানি বেড়েছে। এতে ভাঙন দেখা দেয় মৈনটঘাটসহ পাশের এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার ভাঙণরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়া মাহমুদপুর আবাসন কেন্দ্র, শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ঝুঁকির মুখে। 

সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার মিনি কক্সবাজারখ্যাত এলাকার মৈনটঘাটে অবস্থিত লঞ্চ টার্মিনাল ও শতাধিক দোকান কয়েক দিনে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া পুরুলিয়া, দেওভোগ. ইরায়নপুর, চরকুসুমহাটীসহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীতে ভাঙতে শুরু করেছে। মৈনটঘাট এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘মৈনটঘটে দোকান করে কোনো মতে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাবন করতাম। এ বছর পদ্মার ভাঙনের কারণে হয়তো আর ব্যবসা করতে পারব না। যেকোনো মুহূর্তে আমার দোকান নদীতে চলে যাবে।’ 

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ভাঙনের কারণে আমার দোকান ঘর তিনবার সরিয়েছি। জানি না আবার কী হবে। এভাবে ভাঙতে থাকলে আর ব্যবসা করতে পারব না।’ 

স্থানীয় বৃদ্ধ শফিউদ্দিন বলেন, ‘আমার কোনো ফসলি জমি নেই, একটু বসতভিটা আছে তা নদীতে চলে গেলে আর কিছুই থাকবে না।’

এদিকে গতকাল দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম ও পৌর মেয়র আলমাছ উদ্দিন। এ সময় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম বলেন, ‘পদ্মার ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী কাজ করছে। এরই মধ্যে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।’ 

আরও