ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রায় তিন মাসে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯ শিশু ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০ জন।
গত ১৭ মার্চ থেকে ১৩ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৬২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৯১২ জন। আজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মারা যাওয়া শিশুটির বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলায়। তার বয়স ছিল ১০ মাস। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে মমেক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হামের উপসর্গের পাশাপাশি শিশুটি নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত ছিল।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংক্রমণজনিত মারাত্মক শক, নিউমোনিয়া এবং বাম পাশের ফুসফুসের আবরণী এলাকায় অস্বাভাবিক তরল জমে যাওয়ার জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল বোর্ডের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৩ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৬২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৯১২ জন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ১০০ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনটি বিশেষ মেডিকেল টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামের উপসর্গে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৫ জন শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭৩৩ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ শিশু।
সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪২ জনে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫৫৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯২ শিশু।