ঈদের ছুটিতেও মহাসড়কের দুর্ভোগে পর্যটক কমেছে সিলেটে

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষ হলেও দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী সিলেটে দেখা মেলেনি কাঙ্ক্ষিত পর্যটকের।

ভরা মৌসুমেও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আশানুরূপ দর্শনার্থী না আসায় চরম হতাশায় দিন কাটছে এ খাতের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের। ব্যবসায়ীদের মতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল দশা ও চলমান সংস্কারকাজের কারণে সৃষ্ট তীব্র ভোগান্তিই পর্যটকদের সিলেটবিমুখ হওয়ার প্রধান কারণ। পাশাপাশি টানা বৃষ্টিপাত ও চলমান অর্থনৈতিক মন্দাকেও দায়ী করছেন তারা।

সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলং, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। স্থানীয় কিছু দর্শনার্থী ছাড়া বাইরের জেলা থেকে আসা মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। সাধারণত ঈদের ছুটিতে সিলেটের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। অথচ এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

সিলেট হোটেল ও গেস্ট হাউজ ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি সুমাত নূরী জুয়েল জানান, বর্তমানে সিলেটের ৫০-৬০ শতাংশ হোটেল-মোটেল খালি রয়েছে। এমনকি জাফলংয়ের বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোতে বুকিংয়ের হার মাত্র ২০-২৫ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন।

এদিকে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে এবার ঈদে কোটি টাকার ব্যবসার যে লক্ষ্যমাত্রা ব্যবসায়ীরা নির্ধারণ করেছিলেন, পর্যটক সংকটে তা অনেকটাই ভেস্তে গেছে। হোটেল-রিসোর্টের পাশাপাশি পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যেমন কসমেটিকস, হস্তশিল্প ও খাবারের হোটেলের মালিকদেরও ব্যবসা হয়নি।

সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রের নৌকাচালক মঈন উদ্দিন জানান, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে যেখানে দৈনিক ৪০০-৪৫০টি নৌকার ট্রিপ হতো, এবার তা মাত্র ১০০টিতে নেমে এসেছে। আশা করা হয়েছিল, ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত পর্যটকের সমাগম ঘটবে, কিন্তু তা ঘটেনি।

কোম্পানীগঞ্জ ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরই আশায় বুক বাঁধি, কিন্তু পরে হতাশ হই। এবারো তাই হয়েছে। সিলেটের পর্যটন নিয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ছাড়া এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।’

জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. হোসেন মিয়া জানান, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার পর্যটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তিনি এর জন্য বিমানের ভাড়া বেশি হওয়া এবং ভাঙাচোরা সড়ককে দায়ী করেন।

সিলেট ট্যুরিজম ক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবীর লিটন জানান, বর্ষা মৌসুমে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী, বিছনাকান্দির ঝরনা, মালনীছড়া ও লাক্কাতুরার সবুজ চা বাগান কিংবা হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর এক অপরূপ সৌন্দর্য ধারণ করে। এ সময়েই পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি ঢল নামে। কিন্তু এবার একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের খানাখন্দ ও ধীরগতির সংস্কারকাজ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। সড়কপথের এ দুঃসহ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণেই ভ্রমণপিপাসুরা এবার সিলেটের বিকল্প খুঁজছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ, সিলেট রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, কাঙ্ক্ষিত পর্যটক না এলেও যারা এসেছেন, তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পর্যটন এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন স্পটে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও