বেনাপোল বন্দর দিয়ে এক বছরে যাত্রী যাতায়াত কমেছে ১০ লাখ

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার জন্য দেশের সবচেয়ে বড় রুট বেনাপোল। এ বন্দর থেকে ভারতের কলকাতা শহরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাও অন্য যেকোনো বন্দরের তুলনায় বেশ উন্নত।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার জন্য দেশের সবচেয়ে বড় রুট বেনাপোল। এ বন্দর থেকে ভারতের কলকাতা শহরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাও অন্য যেকোনো বন্দরের তুলনায় বেশ উন্নত। সে কারণে চিকিৎসা, ব্যবসা, ভ্রমণ ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ব্যবহার করেন। প্রতি বছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ২৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। তবে গত এক বছরে যাত্রী সংখ্যা কমেছে ১০ লাখেরও বেশি। এতে ভ্রমণ খাতের রাজস্ব কমেছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পথে যাতায়াত করেছেন ১১ লাখ ৯০ হাজার ৮২১ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ৬ লাখ ৬ হাজার ৪১০ জন। আর ফিরেছেন ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৪১১ জন। এ থেকে সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ রুটে যাতায়াত করেছেন ২২ লাখ ৫ হাজার ৪৭৮ জন। রাজস্ব এসেছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে যাত্রী কমেছে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫৭ জন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি ইলিয়াস হোসেন মুন্সী বলেন, ‘আগে প্রতিদিন সাত-আট হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করতেন। এখন এ সংখ্যা ৩০০-৪০০-তে নেমে এসেছে।’

আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘ভারতীয় নাগরিকরা সহজে বাংলাদেশী ভিসা পেলেও বাংলাদেশীদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমাদের ব্যবসায়ীরা।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ ভারতের ভিসা জটিলতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশীদের ভিসা দেয়া এক রকম বন্ধ করে দেয় ভারত। প্রায় এক বছর হতে চললেও এখন পর্যন্ত এটি স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে ভারতগামী যাত্রীদের চাপ কমেছে। এছাড়া সীমান্তের দুই পারের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে যাত্রীদের। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ছিনতাই ও প্রতারণার শিকার হওয়ার মতো নেতিবাচক অভিজ্ঞতাও রয়েছে অনেকের। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি।

বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। সহজ যোগাযোগের কারণে চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের জন্য বহু বাংলাদেশী এ রুটে যাতায়াত করেন। তবে বন্দর এলাকায় নেই পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। শৌচাগার, বিশ্রামাগার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সবকিছু নিয়েও অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের।

ভুক্তভোগী অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘ভ্রমণ কর বাড়লেও সেবার মান বাড়েনি। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’

আরেক পাসপোর্টধারী পলাশ বলেন, ‘ঢাকা থেকে ৫ ঘণ্টায় বেনাপোলে আসা গেলেও বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টার পর। আগের মতোই দুর্ভোগ রয়ে গেছে।’

এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সেবার মান বাড়াতে বন্দরে নতুন যাত্রী ছাউনির জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। ভারতীয় অংশেও সেবার মান বাড়াতে অনুরোধ করা হয়েছে।’

আরও