আমদানির আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী টমেটো কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বেচাকেনা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিক্রি না হওয়ায় মাঠেই নষ্ট হতে শুরু করেছে পাকা টমেটো। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়ায় লোকসানের শঙ্কা আরো বেড়েছে কৃষকের।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলা হাফিজাবাদ, হাঁড়িভাসা, কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নে রবি এবং খরিপ মৌসুমে ৬৭০ হেক্টর জমিতে প্রায় দুই হাজার চাষী ২৬ হাজার ৮০০ টন টমেটো উৎপাদন করেন।
চাষীরা জানান, কয়েকদিন আগেও তারা প্রতি মণ টমেটো ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীরা আর টমেটো কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অথচ পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে যে পরিমাণ টমেটো রয়েছে, তা দিয়েই আরো অন্তত দুই মাস দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এ অবস্থায় আমদানি শুরু হলে স্থানীয় বাজার ধসে পড়বে এবং কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।
চাষী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক খেতেই টমেটো নষ্ট হতে শুরু করেছে। এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি বাবদ প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতি বিঘায় ১৫০ থেকে ২০০ মণ টমেটো উৎপাদনের আশা ছিল। তবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উৎপাদনেও ক্ষতি হয়েছে।’
মিজানুর রহমান জানান, এ বছর বাজারদর তুলনামূলক ভালো ছিল। বর্তমানে প্রতি মণ টমেটো ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। গত বছর অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে খেতেই টমেটো ফেলে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, সৈয়দপুর, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা পঞ্চগড়ে এসে টমেটো কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন। এসব টমেটো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ফেনী ও বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। তাদের ভাষ্য, পঞ্চগড়ের টমেটো স্বাদ ও গুণগত মানে অনন্য হওয়ায় এর চাহিদা ব্যাপক। জুলাই পর্যন্ত এ জেলার টমেটো দিয়েই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই এ সময়ে টমেটো আমদানির কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা দাবি করেন, টমেটো আমদানি করলে স্থানীয় বাজার পড়ে যাবে।|দেশে উৎপাদিত টমেটো অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি করতে হবে।| বাজারের অবস্থা দেখার জন্য পঞ্চগড়ের টমেটো তাই কেনা বন্ধ করে দিয়েছে তারা।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৭৮ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে সদর উপজেলায়। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশী টমেটো আমদানির জন্য এলসি খোলা হলে স্থানীয় চাষী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।’