২০২৬ সালে পর্যটনের নতুন জোয়ার: গন্তব্য প্রথাগত সীমানার বাইরে

হিমালয়ের কোলে শান্ত ও রহস্যময় দেশ ভুটান। সত্তরের দশকে প্রথমবারের মতো পর্যটকদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করলেও দেশটি সবসময়ই ‘উচ্চ মান, স্বল্প ভিড়’ নীতিতে অটল। ২০২৫ সালে দেশটিতে পর্যটক আগমন বেড়েছে অবিশ্বাস্য, ৪৪ শতাংশ। গত বছর বজ্র ড্রাগনের দেশটিতে পা রেখেছেন ২ লাখেরও বেশি পর্যটক।

বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্পে সুবাতাস বইছে। তবে ২০২৬ সালের এ জোয়ারের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—পর্যটকরা এখন আর কেবল প্যারিস, লন্ডন বা নিউ ইয়র্কের মতো প্রথাগত ‘ট্যুরিজম হেভিওয়েট’ শহরগুলোয় সীমাবদ্ধ নেই। ইথিওপিয়া থেকে ভুটান, কিংবা ব্রাজিল থেকে সেশেলস—বিশ্বের মানচিত্রে এতদিন যারা কিছুটা নিভৃতে ছিল, তারাই এখন পর্যটকদের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

ইউএন ট্যুরিজমের সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ব্যারোমিটার’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড দেড়শ’ কোটিরও বেশি মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণ করেছেন। বৈশ্বিকভাবে পর্যটক আগমন বেড়েছে ৪ শতাংশ, যা ২০০৯-২০১৯ সালের প্রাক-মহামারি প্রবৃদ্ধির হারের (৫ শতাংশ) কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। চলতি বছর এ রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সব পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ইউরোপ এখনো পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে (প্রায় ৮০ কোটি আগমন) থাকলেও, প্রবৃদ্ধির হারের দৌড়ে সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে কিছু উদীয়মান দেশ। ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি ফার্ম ‘রিভিগোরেট’-এর প্রধান নির্বাহী স্টিভেন ভিগরের মতে, ভ্রমণপিপাসুরা এখন এমন সব জায়গা খুঁজছেন যেগুলোর নিজস্ব শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় আছে, কিন্তু এখনো পর্যটনের চাপে পিষ্ট হয়নি। এটি এক ধরনের ‘হাই-আইডেন্টিটি’ এবং ‘ইমার্জিং’ গন্তব্যের যুগ।

মিসর: প্রত্নতত্ত্ব আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমি মিসর। তবে ২০২৬ সালে এসে দেশটি কেবল তার ইতিহাসের ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলছে না, বরং পর্যটনের এক অভূতপূর্ব স্বর্ণালি সময় পার করছে। ২০২৫ সালের তুলনায় আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে মিসর এখন অন্যতম শীর্ষ পারফর্মার।

নীল নদে বড় জাহাজের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঠের পালতোলা নৌকা ‘দাবিয়া’

মিসরের এ পর্যটন বিপ্লবের মূলে রয়েছে গিজার পিরামিডের সন্নিকটে অবস্থিত বহুল প্রতীক্ষিত গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম। দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘসূত্রতা আর অসংখ্যবার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে এটি যখন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলো, তখন বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের মাঝে এক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।

পর্যটন সংস্থা ‘নিউ পাথস এক্সপেডিশনস’-এর প্রতিষ্ঠাতা হোর্হে সালাস-গুয়েভারা বলেন, যারা আগে এসে মিসর দেখে গিয়েছিলেন তারা একটি অতৃপ্তি নিয়ে ফিরতেন যে সেরাটাই দেখা হয়নি। আর যারা প্রতীক্ষায় ছিলেন তারা এখন নিশ্চিত হয়ে ভ্রমণে আসছেন। এই দুই দল পর্যটক এখন একই সঙ্গে মিসরে ভিড় করছেন।

ভ্রমণপিপাসুদের রুচি বদলেছে। হাজার হাজার মানুষের ভিড় ঠেলে বিশাল ক্রুজ শিপে চড়ার চেয়ে এখন মানুষ শান্ত ও স্নিগ্ধ ভ্রমণ পছন্দ করছে। পর্যটন অপারেটররা এখন নীল নদে বড় জাহাজের বিকল্প হিসেবে ঐতিহ্যবাহী কাঠের পালতোলা নৌকা ‘দাবিয়া’ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।

এছাড়া, মিসরে এবারই প্রথম চালু হয়েছে ‘বোট অ্যান্ড বাইক ট্যুর’। ইউরোপে জনপ্রিয় এ ধারণাটি এখন নীল নদের পাড়ে আছড়ে পড়েছে। পর্যটকরা এখন কেবল গাড়িতে চড়ে দর্শনীয় স্থান দেখছেন না, বরং গ্রাম্য মেঠোপথ আর খেজুর বাগানের মধ্য দিয়ে সাইকেল চালিয়ে অনুভব করছেন গ্রামীণ মিসরকে। সঙ্গে থাকছেন বিশেষজ্ঞ মিসরবিদরা, যারা চলার পথেই তুলে ধরছেন প্রাচীন ইতিহাসের অজানা অধ্যায়।

ভ্রমণ সংস্থা ‘টিম্বাক্টু ট্রাভেল’-এর তথ্যমতে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে ভ্রমণের অনুসন্ধান বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে ২০২৬-এর এ জোয়ারে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে ২০২৭ সালের আসন্ন পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। মিসর থেকে এ মহাজাগতিক দৃশ্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে বলে জ্যোতির্বিদ্যা প্রেমীরা এখন থেকেই হোটেল ও গাইড বুকিং শুরু করে দিয়েছেন।

ব্রাজিল: সাম্বার দেশে পর্যটনের মহাবিপ্লব

২০২৬ সালের বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে যদি কোনো একটি দেশ সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়ে থাকে, তবে সেটি নির্দ্বিধায় ব্রাজিল। ২০২৫ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন বেড়েছে অবিশ্বাস্য ৩৭ শতাংশ—যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের তুলনায় সর্বোচ্চ।

ব্রাজিলের এ অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সরকারের ‘এমব্রাতুর’ সংস্থার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ২০২৪ সাল থেকে তারা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ রুট বাড়াতে ভর্তুকি দেয়া শুরু করে।

ব্রাজিলের পর্যটকদের প্রোফাইলেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখন কেবল তরুণ অভিযাত্রীরা নন, বরং সপরিবারে বড় বড় কোম্পানির নির্বাহীরাও ব্রাজিলে দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন। পর্যটন বিশেষজ্ঞ মার্কো আমারালের মতে, এখনকার পর্যটকরা ‘কনশাস লাক্সারি সিকার’ বা সচেতন বিলাসিতা অন্বেষী। তারা প্রকৃতির সান্নিধ্য, মানসিক প্রশান্তি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে বেশি আগ্রহী।

ব্রাজিলের সমুদ্রসৈকত

ব্রাজিলের ৯ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা আর বিশাল অভ্যন্তরীণ বনভূমি পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ইউরোপের মতো এখানে ‘ওভার ট্যুরিজম’ বা অতিরিক্ত পর্যটনের সমস্যা নেই, বরং সমস্যা হলো পর্যটকদের কেবল রিও বা সাও পাওলোতে আটকে থাকা। সে লক্ষ্যে এখন প্রচারণা চালানো হচ্ছে অপ্রচলিত গন্তব্যগুলোর ওপর।

অলিম্পিক, ফুটবল বিশ্বকাপ আর সাও পাওলো গ্রাঁ প্রি-র মতো বড় ইভেন্টগুলো ব্রাজিলকে বিশ্বের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। আসন্ন ২০২৭ সালের নারী ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পর্যটন খাতে এখন থেকেই বিনিয়োগ বাড়ছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে ব্রাজিলের মুদ্রার সুবিধাজনক বিনিময় হার দেশটিকে সাশ্রয়ী কিন্তু মানসম্পন্ন গন্তব্যে পরিণত করেছে।

ইথিওপিয়া: আফ্রিকার ‘মুকুট’-এ পর্যটনে নবজাগরণ

দীর্ঘ কয়েক বছরের সংঘাত আর মহামারির স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালে আফ্রিকার পর্যটন মানচিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছে ইথিওপিয়া। ২০২৫ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

গত বছরের জুলাই মাসে দেশটির সরকার চালু করেছে ‘ভিজিট ইথিওপিয়া’ নামক একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এটি পর্যটকদের জন্য ওয়ান-স্টপ সল্যুশন হিসেবে কাজ করছে, যেখানে হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে গাইড নির্বাচন সবই মিলছে এক ক্লিকে। নতুন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও উন্নত পরিষেবা পর্যটকদের মনে দেশটির নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে নতুন করে আস্থা তৈরি করেছে।

পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরণিত হচ্ছে ইথিওপিয়ার সিমিয়েন পর্বতমালা

‘টিম্বাক্টু ট্রাভেল’-এর তথ্যমতে , গত এক বছরে দেশটিতে ভ্রমণের অনুসন্ধান বেড়েছে ৪০ শতাংশ। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এখন স্কুল গ্রুপ ও তরুণ অভিযাত্রীরাও ইথিওপিয়ার পাহাড় ও প্রাচীন ইতিহাসের দিকে ঝুঁকছেন।

ইথিওপিয়া কেবল ভ্রমণের জায়গা নয়, এটি মানব সভ্যতার আদি ইতিহাস আর অস্পৃশ্য প্রকৃতির এক ভাণ্ডার। ইতিহাস আর প্রকৃতি এখানে হাত ধরাধরি করে চলে।

পর্যটকদের জন্য দেশটির প্রধান কিছু আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে লালিবেলা ও আকসুম উত্তর ইথিওপিয়ার পাহাড় কেটে বানানো ১২শ শতাব্দীর প্রাচীন গির্জা ‘লালিবেলা’ ও আকসুম সাম্রাজ্যের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো পর্যটকদের টাইম মেশিনে করে অতীতে নিয়ে যায়। সেইসঙ্গে ট্রেকারদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত সিমিয়েন পর্বতমালা পর্বতমালায় দেখা মেলে বিরল ‘জেলাডা বানর’। বিশ্বের আর কোথাও এদের দেখা যায় না।

সিশেলস: কেবল মধুচন্দ্রিমা নয়, দ্বীপরাষ্ট্রটি এখন সবার

ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র সিশেলস ২০২৫ সালে পর্যটক আগমনে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আফ্রিকার সফল দেশগুলোর তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছে। এক সময় কেবল নবদম্পতিদের মধুচন্দ্রিমার আদর্শ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত থাকলেও, ২০২৬ সালে সেশেলস নিজেকে মেলে ধরেছে এক বৈচিত্র্যময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে।

সিশেলসের এ সাফল্যের মূল স্তম্ভ হলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের নিবিড় সমন্বয়। দেশটির পর্যটন বিভাগের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শেরিন ফ্রান্সিস বলেন, ২০২৪ সালের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাওয়া আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। মানসম্মত পর্যটন নিশ্চিত করতে আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি।

বর্তমানে দেশটিতে পারিবারিক ভ্রমণ এবং শরীর-মন চাঙ্গা করতে আসা ‘ওয়েলনেস ট্রাভেলার’-দের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পর্যটন বিশেষজ্ঞ নাজি এস্তা বলেন, পর্যটকরা এখন পাহাড়ি ঝরনায় ট্রেকিং, স্নরকেলিং কিংবা বনফায়ারের চারপাশে ঐতিহ্যবাহী ‘মৌতিয়া’ নাচে মেতে উঠছেন।

সিশেলস-এর মূল আকর্ষণ সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো

সিশেলস বর্তমানে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বের অন্যতম পথপ্রদর্শক। দেশটি তাদের জলসীমার ৩০ শতাংশ এলাকাকে সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে। এছাড়া পুরো দ্বীপপুঞ্জে কোনো ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সমুদ্রসৈকত নেই; অর্থাৎ প্রতিটি সৈকত স্থানীয় মানুষ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত।

ভ্রমণপিপাসুরা এখন সিশেলসের অন্দরমহল দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পর্যটন অপারেটররাও অতিথিদের উৎসাহিত করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে। তাই দেশটির ফলের বাগান ও ইকো-ফার্ম, প্রাকৃতিক প্রসাধনী ও পণ্যের কারখানা এখন পর্যটন স্থানে পরিণত হয়েছে।

সিশেলস প্রমাণ করেছে, বিলাসিতার সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্য আর পরিবেশ সংরক্ষণের মেলবন্ধন ঘটলে একটি গন্তব্য কতটা অনন্য হয়ে উঠতে পারে।

ভুটান: অল্প ভিড়ে বেশি সাচ্ছন্দ্য

হিমালয়ের কোলে শান্ত ও রহস্যময় দেশ ভুটান। সত্তরের দশকে প্রথমবারের মতো পর্যটকদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করলেও দেশটি সবসময়ই ‘উচ্চ মান, স্বল্প ভিড়’ নীতিতে অটল। ২০২৫ সালে দেশটিতে পর্যটক আগমন বেড়েছে অবিশ্বাস্য, ৪৪ শতাংশ। গত বছর বজ্র ড্রাগনের দেশটিতে পা রেখেছেন ২ লাখেরও বেশি পর্যটক, যা প্রমাণ করে আধুনিক পর্যটকরা এখন কৃত্রিম চাকচিক্যের চেয়ে আত্মিক শান্তির খোঁজেই বেশি ব্যাকুল।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ভুটান

ভুটানের পর্যটন প্রবৃদ্ধির পেছনে তাদের দূরদর্শী ট্যাক্স নীতি বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে পর্যটকদের প্রতিদিনের জন্য ১০০ মার্কিন ডলার ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি’ বা এসডিএফ দিতে হয় (বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য যা বিশেষ সুবিধায় মাত্র ১৫ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা)।

এই অর্থ সরাসরি ব্যয় করা হয় দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিকদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে। ভুটানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডক্টর লোটে শেরিং-এর মতে:"‘স্বল্প ভিড়’ মানে পর্যটকদের সংখ্যা সীমিত করা নয়; বরং আমরা চাই যারা আসবেন তারা আমাদের মূল্যবোধকে সম্মান করবেন এবং আমরাও তাদের কাছ থেকে শিখব।"

ভুটান বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা মোট দেশজ উৎপাদন-এর বদলে মোট জাতীয় সুখ-কে উন্নতির মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করে। পর্যটন সংস্থা ‘হিমালয়ান ইকোস’-এর প্রধান যিশান গোয়েল বলেন, ভুটান হলো আধুনিক জীবনের ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ। যারা পুরো পৃথিবী ঘুরে ফেলেছেন এবং এখন জীবনের গভীর কোনো মানে খুঁজছেন, ভুটান তাদেরই টানে।

আরও