কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিগগিরই দেশজুড়ে মানব পাচার ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান

মানব পাচার ও মাদকমুক্ত করতে শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘মাদক বর্তমানে একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা দেশের যুবসমাজকে বিপথগামী করছে।’ এ কারণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। গতকাল দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ এজাহার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মানব পাচার রোধে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সুসংগঠিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’ নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের ভাতা এবং সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের ভাতা চালুর কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষকের অবস্থান শক্তিশালী হলে দেশও এগিয়ে যাবে।’ এ লক্ষ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এ সময় মন্ত্রী নববর্ষের প্রথম দিনে কৃষক কার্ড বিতরণকে জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, স্বল্পমূল্যে যন্ত্রপাতি, সরকারি সহায়তা, ফসলের চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য এবং কৃষি বীমার সুবিধা পাবেন।

কৃষি বিভাগের পাইলট প্রকল্পের আওতায় টেকনাফ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৬৩ জন কৃষক ও ২৩৫ জন কৃষাণী। কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১ হাজার ৬৮৩ জন শস্যচাষী, দুজন মৎস্যচাষী, ১০ জন প্রাণিসম্পদ খাতের এবং তিনজন লবণচাষী। নির্বাচিতদের মধ্যে ১ হাজার ৬৫২ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক-কৃষাণী প্রণোদনা পাবেন।

টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাহান চৌধুরী, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ১০ জন কৃষক ও ৫ জন কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও একটি করে ফলদ চারা তুলে দেন। এর আগে সকালে তিনি টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।

আরও