দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ নিজ জেলা বগুড়ায় ফিরছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। সাধারণ ভোটার, দলীয় নারীকর্মীরা দলে দলে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন।
কাছে থেকে তারেক রহমানকে দেখতে চাইছেন ভোটার ও সমর্থকরা।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টায় শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় তার ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। আজ দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদল জনসভাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ঘুরে দেখেন এবং জনসভার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন। রাজনৈতিক সমাবেশের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তাদের পর্যবেক্ষণে ছিল বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি ছেয়ে গেছে ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে। জনসভার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই আলতাফুন্নেছা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে, যার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে পাশের সড়কগুলোতেও। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরাও মাঠের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।
বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার সেলিনা সীমা জানান, প্রায় ১৯ বছর পর বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান, তাকে একনজর দেখতে যাব। বিএনপি করেন কি না এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে বা তার জনসভায় যেতে বিএনপি করতেই হবে এমন না, তিনি জাতীয় নেতা ও বগুড়ার সন্তান।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘তারেক রহমানের এই সফর এবং ইইউ প্রতিনিধিদলের সভাস্থল পরিদর্শন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এই তৎপরতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’