শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পদ্মার শাখা নদীর ভাঙনরোধে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার এ বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৫৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি, যা একই ধরনের কাজের তুলনায় অনেক বেশি। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের আগে কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়নি। তাই প্রকল্পটি ফেরত দিয়েছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। পিইসির পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করার পর প্রকল্প ব্যয় যৌক্তিক হারে কমিয়ে নতুন করে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খানের সভাপতিত্বে এ প্রকল্পের ওপর পিইসির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভার কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সভায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে পদ্মার শাখা নদী প্রবাহিত হয়। নদীর দুই পাড়সংলগ্ন এলাকা এবং স্থানীয় এলাকা বারবার ভাঙনের ফলে বসতবাড়িসহ ফসলের জমি, সড়ক বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এতে জনসাধারণের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এসব ক্ষতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে নদী তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় আরো জানানো হয়, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে ৫৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়ে প্রকল্পটি শেষ হবে আনুমানিক ২০২৪ সালের জুনে। প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্মপ্রধান এনামুল হক বলেন, প্রকল্পটি মোট ৫৯৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এজন্য কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। তাই অনুমানের ভিত্তিতে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি নিয়মানুযায়ী ১০০ কোটি কিংবা এর অধিক ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণের আগে অবশ্যই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কার্যক্রম বিভাগের ফরম্যাট অনুযায়ী বিস্তারিত ডিজাইন, প্রকল্প গ্রহণের সুবিধা এবং ঝুঁকিগুলো উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত চারটি অঞ্চলকে দুর্বল অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ অঞ্চলগুলো প্রকল্পের কোন অংশে অবস্থিত সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। এ বিষয়ে আরো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সভায় কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি পানি ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এটি যথাযথভাবে হয়নি বলে সর্বসম্মতিক্রমে ভবন নির্মাণের বিষয়টি বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি কিলোমিটার তীর রক্ষার জন্য খরচ হবে ১০০ কোটি টাকার বেশি, যা অনেক বেশি বলে প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের অন্যান্য প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকা। তাই সমজাতীয় প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ব্যয় কমাতে হবে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্রয় পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নাম সুনির্দিষ্ট করতে হবে। বাস্তবতার নিরিখে প্যাকেজ সংখ্যা আরো কমাতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনরায় প্রণয়নের আগেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রকৌশলী আবদুল হেকিম বণিক বার্তাকে বলেন, পিইসি যেসব পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সেগুলো সমাধানের কাজ চলছে। এরই মধ্যে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে, যা আগামী মাসেই হয়তো শেষ হয়ে যাবে।