কঠোর লকডাউনের কারণে দেশজুড়ে সড়ক ও নৌ-পথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু জরুরি পরিষেবার জন্য নির্ধারিত পরিবহন চলাচল করতে পারবে। কিন্তু দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জরুরি সেবার পরিবহনেই অবাধে যাতায়াত করছে সাধারণ মানুষ। যাতায়াত বন্ধে প্রশাসনের কোনো তত্পরতা নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জরুরি পরিষেবা পরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ছয়টি ফেরি চলাচল করছে। তবে এসব ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিষেবার যানবাহনের সঙ্গে উঠে যাচ্ছে যাত্রী ও শতশত মোটরসাইকেল। প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর ফেরিগুলো ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে। কোনো রকম বাধা ছাড়াই যাত্রীরা ফেরিতে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
পাটুরিয়া ঘাটে বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, লকডাউনের কারণে দেশজুড়ে যানবাহন সেবা বন্ধ। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই জরুরি পরিষেবার ফেরিতে নদী পারাপার করতে হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি অরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লর রহমান জানান, এ নৌ-রুটে চলাচলকারী ১৬টি ফেরির মধ্যে ছয়টি ফেরি জরুরি পরিষেবা ও জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের জন্য চালু রাখা হয়েছে। বাকি ফেরিগুলো ঘাটে আটকে রাখা হয়েছে। তবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা থেকে বিভিন্নভাবে যাত্রীরা দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে তারা ফেরিতে উঠে পড়ছেন। তাদের কোনোভাবেই ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি নানা অজুহাত দেখিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসও ফেরিতে উঠে পড়ছে। প্রশাসনিক নজরদারি থাকলে হয়তো যাত্রী পারাপার ঠেকানো সম্ভব হতো।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, পাটুরিয়া ঘাট থেকে জরুরি প্রয়োজনের গাড়ি ছাড়া কোনো যানবাহন পার করতে দেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পুলিশি নজরদারি অব্যাহত আছে।
তবে দৌলতদিয়াঘাট থেকে যেসব যাত্রী ও কিংবা যানবাহন আসছে, সেগুলো আমরা ফেরত পাঠাতে পারছি না।