ঝুঁকিতে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য

সিলেটের কুশিয়ারার ভয়াল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে জনপদ

কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গোলাপগঞ্জে কয়েকশ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক মাজার ও মসজিদসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। বিলীন হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, মাদরাসাসহ বসতবাড়ি ও কবরস্থান।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে কাজের গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরজমিনে গিয়ে গেছে, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইরচক গ্রামে অবস্থিত ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার ও সংলগ্ন মসজিদটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। গত কয়েক দিনের তীব্র ভাঙনে মাজারের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মাজার ও মসজিদে যাতায়াতের একমাত্র পাকা সড়কটি এরই মধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এবার তা চরম আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ‘‌অতীতে নিজেদের উদ্যোগে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

মাজারের খাদিম ও ইউপি সদস্য সামছুল ইসলাম গেদাই বলেন, ‘‌পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ শুরু হচ্ছে না। এভাবে দেরি হলে আমাদের আবেগ ও ঐতিহ্যের এ মাজার রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জরুরিভিত্তিতে প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় কাজ করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রৌয়াইল-টেংরা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। গত এক দশকে এ অঞ্চলে অন্তত শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে। সাম্প্রতিক ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও ধর্মীয় উপাসনালয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ভাঙন অব্যাহত থাকলে উপজেলার অন্তত আটটি হাওরের ফসল সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজিবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘নদী আমাদের সব কেড়ে নিচ্ছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে বহুবার জানিয়েও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কোনো কাজে আসেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রামবাসী উপজেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

পাউবোর উপ-প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ জানান, তারা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘গ্রামবাসীর লিখিত আবেদন পাওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ পাউবো ও সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, ‘নদীর চরে ড্রেজিং এবং তীরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই আমরা এ ভাঙন রুখতে চাই।’

আরও