গতকাল বেলা ২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় ও সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুটিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেন। এর আগে সকাল ৮টার দিকে শিশুটিকে রেস্তোরাঁয় রেখে যায় পাকিস্তানি পরিবারটি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাকিস্তানি নাগরিক মো. সালমান ও তার পরিবারের সদস্যরা দুটি মাইক্রোবাসযোগে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি দেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে ভুলবশত শিশু নাফিসাকে রেস্তোরাঁতেই রেখে পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছার পর শিশুটির অনুপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারটি আবার কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়।
এরই মধ্যে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে তারা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। অন্যদিকে শিশুটির বাবা সালমান রেস্তোরাঁর ওয়েবসাইট থেকে নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ শিশুটি নিরাপদে আছে বলে নিশ্চিত করে।
শিশুটির বাবা সালমান জানান, তারা দুটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। একটিতে ছিলেন শিশুর বাবা-মা এবং অন্যটিতে দাদা-দাদি। বাবা-মায়ের ধারণা ছিল নাফিসা দাদা-দাদির গাড়িতে উঠেছে, আর দাদা-দাদির ধারণা ছিল সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আছে। এ ভুল–বোঝাবুঝির কারণেই নাফিসা রেস্তোরাঁয় থেকে যায়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে প্রশাসন ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই বিদেশী পরিবার দুটি গাড়িতে এসে জাইতুন রেস্তোরাঁয় নাশতা করেন। এ সময় তারা গল্প-আড্ডায় মেতে ছিলেন। যাওয়ার সময় ভুলক্রমে শিশুটিকে রেস্তোরাঁর ভেতরে রেখেই চলে যায় পরিবারটি।
জাইতুন রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশকে অবহিত করি। পরে শিশুটিকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে দেয়া হয়। এরই মধ্যে পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুপুরে উপজেলা প্রশাসন শিশুটিকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়।’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ভুলবশত তাকে রেস্তোরাঁয় রেখেই চলে গিয়েছিল পরিবারটি।’