বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে আওয়ামী লীগের পথসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন তিনজন। আসন্ন পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী এ ঘটনা ‘ঘটিয়ে থাকতে পারেন’ বলে সন্দেহ করছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে পৌর নির্বাচনের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিস্ফোরণ ও পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে নবীগঞ্জে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় শহরের নতুন বাজার মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নবীগঞ্জ শহরে এক র্যালি করে নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ। র্যালি শেষে নতুন বাজার মোড়ে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মুজাহিদ আহমেদ। এ সময় কে বা কারা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
আশপাশের লোকজন দিক-বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকলে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নবীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আহত তিনজনে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়।
রাত দেড়টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় তিনটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ একজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয় নিয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন ডাকেন পৌর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। গতকাল রবিবার রাত ১০টায় শহরের খালিক মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানা।
এ সময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নবীগঞ্জ মোড়ে এসে এক সথসভায় মিলিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মোজাহিদ আহমেদ। তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিকট শব্দ করে চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ সময় নেতাকর্মীরা দিক-বিদিক ছুটতে থাকেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৩ কর্মী আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারে এখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আমাদের ধারণা আগামী ১৬ জানুয়ারি পৌর নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরী এ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় জেলায় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি প্রার্থীর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন
আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেই পরেই পাল্টা আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি প্রার্থী মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নবীগঞ্জ শহরকে উত্তপ্ত করে তুলতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শান্তির শহর নবীগঞ্জ পৌর নিবার্চনকে কেন্দ্র করে উৎসবে রূপ নিচ্ছে। কিন্তু ঠিক তখনই আমার প্রতিদ্বন্দ্বি মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী নানা অপতৎপরতা চালিয়ে নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছেন। তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অবৈধ প্রভাব দেখিয়ে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় মানুষের সাড়া না পেয়ে তিনি বার বার কেন্দ্রীয় নেতাদের নবীগঞ্জ এনে শহরে মিছিল ও স্লেগানের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
ছাবির আহমেদ বলেন, নবীগঞ্জ নতুন বাজার মোড়ে পথসভা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী যানজট সৃষ্টি করেন। এতে কে বা কারা ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় আমি ও আমার সমর্থনকারীদের জড়িত সন্দেহে করে খালিক মঞ্জিলে যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে তার কোন ভিত্তি নেই এবং সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন এ বক্তব্য দেয়া হয়ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে ঘটনার সাথে জড়িতের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার দলীয় নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।