লন্ডনে সপরিবারে বসবাস করছেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা আশিকুর রহমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গতকাল লন্ডন থেকে আসা ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে টিকিটটি বাতিল করে দেন আশিকুর রহমান।
কেবল আশিকুর রহমানই নন, যুক্তরাজ্যফেরতদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করার পর থেকেই সেখান থেকে দেশে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন প্রবাসীরা। অনেকে আগে টিকিট কেটে রাখলেও কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা জারির পর টিকিট বাতিলে রীতিমতো হিড়িক পড়েছে। ফলে লন্ডন-সিলেট রুটে বিমানের ফ্লাইটে যাত্রী কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।
গতকাল সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে আগত বিমানের আরেকটি ফ্লাইটে দেশে এসেছেন মাত্র ৩৬ জন যাত্রী। এর মধ্যে ২৯ জন সিলেটের। যদিও এ ফ্লাইটের টিকিট কেটেছিলেন ২০৩ জন। বাকি ১৬৬ জনই টিকিট বতিল করে দিয়েছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা কার্যকরের পর গত সোমবার সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে লন্ডন থেকে আগত বিমান বাংলাদেশের প্রথম ফ্লাইট অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন মাত্র ৪৮ জন। এর মধ্যে ৪২ জন ছিলেন সিলেটের। টিকিট কেনার পর বাতিল করেছেন ১৫২ জন যাত্রী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমে এমনিতেই সিলেটের যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের দেশে ফেরার হার বাড়ে। এবার শীতে যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়ায় পর দেশে ফিরতে চাওয়া যাত্রীর সংখ্যা আরো বেড়েছিল। তবে সরকার যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের নিজ খরচে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দেয়ায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা দেশে ফেরার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ নির্দেশনা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সিলেট অফিসের ব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মজুমদার জানান, দেশে ফিরে নিজ খরচে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, এ ভয়ে যাত্রীরা টিকিট বাতিল করেছেন। সোমবার ও গতকালের ফ্লাইটে দুই শতাধিক যাত্রী টিকিট কনফার্ম করার পরও তাদের বেশির ভাগই পরে বাতিল করে দেন।
একই তথ্য জানিয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (কভিড-১৯ ও মিডিয়া সেল) শামমা লাবিবা অর্ণবও। তিনি বলেন, নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনার পর যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অনেকেই দেশে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের অনেকেই টিকিট বাতিল করেছেন।
তিনি বলেন, দেশে আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিনের জন্য আমরা সিলেটে ১০টি হোটেল বাছাই করেছিলাম। কিন্তু প্রবাসীরা সিলেট আসা কমিয়ে দেয়ায় আমরা এখন পর্যন্ত চারটি হোটেল চুড়ান্ত করেছি। আগামীতে দেশে আসা যাত্রী সংখ্যা আরো কমতে পারে।
সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, বিমানের ফ্লাইটে যারা আসছেন তাদের প্রত্যেকেরই করোনা নেগেটিভ সনদ রয়েছে। তবু বিমানবন্দরে নামার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। দেশে আসা যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।