একসময় এ গ্রামের প্রাণ ছিল বঙ্গোপসাগর তীরের কালমেঘা খাল। তবে সে খাল এখন মৃতপ্রায়। খালের বুকজুড়ে কাদা, কোথাও কোথাও জন্মেছে ঘাস। খালে পানি নেই বললেই চলে। ফলে সেচ সংকটে পড়েছেন চাষীরা।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সমস্যাটা নতুন নয়। কিন্তু দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। আগে খাল থেকেই সেচের পানি মিলত। এখন সে সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে দূরের পুকুর থেকে পানি টেনে আনতে হচ্ছে। এতে চাষাবাদে খরচ বাড়ছে। সময় নষ্ট হচ্ছে, ঝুঁকিও বাড়ছে।
কুপদোন গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘আগে এক বিঘা জমিতে আলু আবাদ করতে যে খরচ হতো, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি লাগে। শুধু পানির জন্যই আলাদা খরচ করতে হয়। লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠে না ঠিকমতো।’
দক্ষিণ কুপদোন গ্রাম আলু আবাদে বেশ পরিচিত। গ্রামটির কয়েকশ একর জমিতে আগে আলু চাষ হতো। পানি সংকটের কারণে অনেকেই ধীরে ধীরে আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কমিয়ে দিচ্ছেন জমির পরিমাণ, কেউ আবার পুরোপুরি অন্য ফসল আবাদ করছেন।
এদিকে খাল পুনঃখননের দাবিতে গতকাল মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। দক্ষিণ কুপদোন আলুচাষী সমিতি আয়োজিত কর্মসূচিতে বিষখালী নদীর উৎস থেকে কালমেঘা বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল খননের দাবি জানান তারা। সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজকর্মী গোলাম মোস্তফা, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, পরিবেশ কর্মী আরিফুর রহমান, শফিকুল ইসলাম খোকন, মো. জসীম উদ্দিন প্রমুখ।
স্থানীয়দের দাবি, কালমেঘা খাল পুনঃখনন করা হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। খালে পানি ফিরলে সেচ সহজ হবে, খরচ কমবে, আলু চাষের পরিধিও বাড়বে। এতে শুধু কৃষকই নন, গোটা এলাকার কৃষি অর্থনীতিই চাঙ্গা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে সেচ ব্যবস্থার ভাঙন মানে শুধু একটি মৌসুমের ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব পড়ে। রূপদন ও কুপদোন এলাকায় এর প্রভাব এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। এ বছর এ দুই অঞ্চলে ৫০৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যেখানে গত বছর আবাদ হয়েছিল ৫৬০ হেক্টর জমিতে। সেচ সংকটের কারণেই চাষের জমি কমে আসছে। খাল পুনঃখননের জন্য যে তালিকা পাঠানো হয়েছে, সেখানে কালমেঘার নাম শীর্ষে রাখা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান জানান, খাল পুনঃখননের কাজ এরই মধ্যে চলমান। পর্যায়ক্রমে আরো কিছু খাল এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে। অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে কালমেঘা খাল, যা পুনঃখনন হলে স্থানীয় সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।