ঝিনাইদহে খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব

দুই মাসে আক্রান্ত ৩০ হাজার গরু-বাছুর

ঝিনাইদহে গরুর খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে জেলায় বেড়েছে গরুর মৃত্যুহার। দুই মাসে এ জেলার ছয় উপজেলায় ৩০ হাজার গরু ও বাছুর খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে অন্তত ৪০০। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঝিনাইদহে গরুর খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে জেলায় বেড়েছে গরুর মৃত্যুহার। দুই মাসে জেলার ছয় উপজেলায় ৩০ হাজার গরু বাছুর খুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে অন্তত ৪০০। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে খুরা রোগের প্রাদুর্ভাবে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খামারি কৃষকরা। রোগে গরুর মৃত্যুহার বাড়ায় লাখ লাখ টাকার লোকসানে পড়ছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, ভ্যাকসিন দিয়েও খুরা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুই মাসে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ৭০টি, শৈলকুপায় ১০৯টি, কালীগঞ্জে ৮৫টি, মহেশপুরে ৬৯টি, কোটচাঁদপুরে ২৬টি, হরিণাকুণ্ডুতে ২৭টি গরু বাছুর খুরা রোগে মারা গেছে। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৩০ হাজার। পর্যন্ত ছয় উপজেলার ২৭ হাজার গরুকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার বিষয়খালী ঘোষ পাড়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলাম। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের খরচ বহনের পাশাপাশি গরুর লালনপালনের ব্যয়ও মেটাতাম। আমার গরু সাত মাসের গর্ভবতী ছিল। হঠাৎ মুখে পায়ে ঘা হয়। খাওয়া বন্ধ করে দেয়। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই গরুটি মরে গেল। এতে আমার আড়াই লাখ টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে।

একই গ্রামের পলাশ ঘোষ বলেন, আমি লোন করে দুটি গরু কিনেছিলাম। খুরা রোগে আমার গরুগুলো মরে গেছে। আমার গোয়াল এখন ফাঁকা। ওই গরুগুলো যে পরিমাণ দুধ দিত, তা বিক্রি করেই সমিতির কিস্তি পরিশোধ করছিলাম। এখন গরু মরে যাওয়ায় আমি ঋণ পরিশোধ করতে পারছি না। এদিকে সংসারও চলছে না। সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের খামারি মিঠু শেখ জানান, তিনি গরুর লালনপালন করে সংসার চালান। বছর তার খামারে ৩৭টি গরু ছিল। এর মধ্যে খুরা রোগে তিনটি মারা গেছে। এছাড়া পাঁচটি খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে আছে। গরুগুলোও মরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

কবিরপুর গ্রামের দুলাল ঘোষ জানান, তার পাঁচটি গরু ছিল। খুরা রোগে তিনটি মারা গেছে। বাকি দুটির মধ্যে একটি আক্রান্ত। অন্যটি এখনো সুস্থ।

সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে কামরুজ্জামান নামের এক খামারি বলেন, আমি গরু খামারের মাধ্যমেই জীবিকানির্বাহ করি। গরু বড় করে বিক্রি করি। আশপাশের লোকজনের গরুর খুরা রোগ হচ্ছে। তাই আমি খুব চিন্তায় আছি। কী করব বুঝতে পারছি না।

ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, প্রতি বছরই গরুর খুরা রোগ হয়। তবে এবার রোগে আক্রান্তের সংখ্যা একটু বেশি। এখন পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ২৭ হাজার গরুকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত খামারিদের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

আরও