হাতির আক্রমণে নারী নিহতের ৬ বছর পর ক্ষতিপূরণ পেল পরিবার

২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর রাঙামাটি কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের শামুকছড়িতে বুনো হাতির আক্রমণে মেশি মারমা নামের এক নারী মারা যান। এ ঘটনার ছয় বছর পর নিহত পরিবার হিসেবে মেশি মারমার স্বামী পাইঅং মারমাকে ৩ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা করা হলো।

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ছয় বছর আগে বুনো হাতির আক্রমণে নিহত নারীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের রাঙামাটি কার্যালয়ে অর্থ সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর রাঙামাটি কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের শামুকছড়িতে বুনো হাতির আক্রমণে মেশি মারমা নামের এক নারী মারা যান। এ ঘটনার ছয় বছর পর নিহত পরিবার হিসেবে মেশি মারমার স্বামী পাইঅং মারমাকে ৩ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা করা হলো।

চেক বিতরণকালে ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া বলেন, বন্য প্রাণী লোকালয়ে এলে তাদেরকে বিরক্ত করা যাবে না। কিছু সময় পর তারা নিজে থেকে লোকালয় ছেড়ে যাবে। এরপরও মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছে।

সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান বলেন, বন্য হাতির আক্রমণে হতাহতের ঘটনা ঘটলে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। যথাযথভাবে আবেদন পৌঁছালে ক্ষতিগ্রস্তরা অর্থ সহায়তা পাচ্ছেন।

চেক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের আওতাধীন কাউখালী উপজেলার খাশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, বিলাইছড়ির তিনকুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর গফুর প্রমুখ।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর অধীনে বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী বাঘ, হাতি, কুমিরসহ বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মানুষ মারা গেলে নিহতের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এছাড়া মানুষ আহত হলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা এবং ফসলের ক্ষতি ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে।

আরও