শতবর্ষী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সংকটে ব্যাহত পাঠদান

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গোয়াইলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহুমুখী সংকট দিন দিন বাড়ছে।

বেশির ভাগ শ্রেণীকক্ষ পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নেই প্রধান শিক্ষক। এতে পড়ালেখার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে জটিলতা বাড়ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের পাঁচটি পুরনো কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ছয়টি শ্রেণীর ক্লাস মাত্র তিনটি কক্ষে গাদাগাদি করে চলছে। ফলে একটি ভবনের সীমিত স্থানে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে ২০২৪ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দিয়ে কার্যক্রম চলছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির পুরনো ভবনের পাঁচটি শ্রেণীকক্ষের দরজা, জানালা, চালা ও পলেস্তারা খসে পড়ছে। কক্ষগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে নতুন ভবনের চারটি কক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে একটি অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করায় বাকি তিনটিতে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও আছেন চারজন। প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

‎অভিভাবকরা জানান, শ্রেণীকক্ষের অভাব একটি মৌলিক সমস্যা। শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নয়নে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এটি সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

‎বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. শাহজাদী বেগম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪২ শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ শ্রেণীকক্ষ রয়েছে মাত্র তিনটি। শিক্ষার্থীদের তুলনায় কক্ষ খুবই সীমিত। বাধ্য হয়ে গাদাগাদি করে ক্লাস নিচ্ছি। এরই মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে নতুন ভবনের চাহিদা দিয়ে দিয়েছি। দ্রুত ভবন বরাদ্দ পেলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পিডিপি-৪ ক্লোজিং হয়েছে। নতুন অর্থবছরে (২০২৬-২৭) বরাদ্দ পেলে গোয়াইলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।’

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০ বছরের মধ্যে কোন কোন বিদ্যালয়ে ভবন হয়নি তার একটা তালিকা করেছি। আমাদের অধিদপ্তর থেকে এটি চেয়েছিল, আমরা সেটি পাঠিয়েছি।’ গোয়াইলবাড়ীর এ বিদ্যালয়ে ভবন না হওয়ার পেছনে প্রধান শিক্ষককে দায়ী করেন তিনি।

আরও