ইতালির সাধারণ ক্ষমা কার্যক্রম

অবৈধই থেকে যাবে নথিবহির্ভূত বাংলাদেশীরা

অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসীদের একাংশের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে ইতালির সরকার। এ সুযোগ সর্বজনীন না হওয়ায় দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত বাংলাদেশীরা অবৈধই থেকে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় বৈধ অভিবাসনের সুবিধা পেতে আন্দোলন-সমাবেশ-মানববন্ধন করে যাচ্ছেন দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা।

অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসীদের একাংশের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে ইতালির সরকার। এ সুযোগ সর্বজনীন না হওয়ায় দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত বাংলাদেশীরা অবৈধই থেকে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় বৈধ অভিবাসনের সুবিধা পেতে আন্দোলন-সমাবেশ-মানববন্ধন করে যাচ্ছেন দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা।

বর্তমানে ইতালিতে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশী বৈধভাবে বসবাস করছেন। অভিবাসীর সংখ্যার দিক থেকে ইতালিতে বাংলাদেশীদের অবস্থান অষ্টম। দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশীদের হার ১১ শতাংশ। দেশটিতে বর্তমানে অবৈধ ও অনথিভুক্ত হিসেবে রয়েছে অর্ধ লাখের বেশি বাংলাদেশী। এর মধ্যে ৩৮ হাজারই ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাকারী।

ইতালিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের ৯৮ শতাংশই বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও দোকানে কাজ করছেন। অন্যদিকে দেশটির সরকার ঘোষিত বৈধকরণ কার্যক্রমের আওতায় রেস্তোরাঁ বা দোকানে কাজ করা কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে এ বাংলাদেশীরা এখনই সেখানে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, আশির দশকে প্রথম অভিবাসনের উদ্দেশ্য বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়া শুরু হয়। সেখানে বৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের বেশির ভাগই বিভিন্ন দোকান ও রেস্তোরাঁর মালিক। গোটা কমিউনিটির বড় একটি অংশ সেখানে কাজ করে। মূলত লিবিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশীদের মধ্যে বিপুল পরিমাণে ইতালিতে যাওয়ার প্রবণতা শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্র মতে, লিবিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত প্রায় ৮০ হাজার বাংলাদেশীর বড় একটি অংশ ওই সময় ইতালিতে প্রবেশ করে। তাদের অনেকে বৈধ হয়েছেন। আবার অনেকে বৈধ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে এবারের সাধারণ ক্ষমা কার্যক্রমে বাংলাদেশীদের বড় অংশই বাদ পড়ে যাবেন।

ইতালি সরকারের সাধারণ ক্ষমাসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে এ সুযোগের আওতাভুক্ত অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার সুযোগ আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কৃষি, মত্স্য, প্রাণিপ্রজনন, প্রাণিসম্পদ ও গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত যেসব শ্রমিক অবৈধ বা চুক্তিবহির্ভূতভাবে অবস্থান করছেন, শুধু তারাই এ বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারবেন। খাতগুলোয় কর্মরত সবাইকেই আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে ইতালি। এক্ষেত্রে সাধারণ ক্ষমা কার্যক্রমে আওতাভুক্তদের জন্য কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়নি রোম। এসব খাতে কর্মরত অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যেককেই বৈধ হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে।

এ বৈধকরণ প্রক্রিয়ার সুযোগ পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই চলতি বছরের ৮ মার্চের আগে ইতালিতে প্রবেশ করতে হবে। এজন্য অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেয়া ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র সঙ্গে থাকতে হবে। ইতালিতে প্রবেশের পর বৈধ হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনোভাবেই দেশটি ছেড়ে যাওয়া যাবে না। এছাড়া রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমতিপ্রাপ্তদের যাদের মেয়াদ গত বছরের ৩১ 

অক্টোবর শেষ হয়েছে, তারাও এ প্রক্রিয়ায় বৈধ হতে পারবেন। নিজ উদ্যোগে কোনো অভিবাসী বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চাইলে তাকে থানায় গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে দেখাতে হবে যে তিনি কৃষি বা গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এক্ষেত্রে ছয় মাসের সময়সীমার অস্থায়ী পারমিটের সঙ্গে কেউ যদি চাকরির চুক্তিপত্র দেখাতে পারেন, তবে তা ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বণিক বার্তাকে বলেন, ইতালি সরকার করোনা সংক্রমণের সময় সেখানে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। সুনির্দিষ্ট কৃষি ও গৃহকর্মীসহ কিছু খাতে কর্মরতদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে আমাদের অধিকাংশ মানুষই সেখানে পর্যটন ও রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। ফলে তাদের সম্ভাবনা নেই। তবে যারা কৃষি খাতে বা বাড়িতে কাজ করতেন, তাদের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতালীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, বর্তমানে প্রায় ছয় লাখের মতো অবৈধ অধিবাসী দেশটিতে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ১২ হাজারের মতো অবৈধ অভিবাসী চাকরিদাতার মাধ্যমে আবেদন করে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। নিজে আবেদন করে বৈধ হতে পারেন ৫২ হাজার অবৈধ অভিবাসী।

বর্তমানে ইতালির বিভিন্ন শহরে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় শামিল হতে মানববন্ধন ও আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা। সর্বশেষ ২১ জুন মিলানের সেন্ট্রাল স্টেশন পয়েন্টে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিনা শর্তে সব অবৈধ অধিবাসীকে বৈধকরণের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, আগে বৈধকরণের সময়সীমা প্রথমে ৩০ জুন পর্যন্ত দেয়া ছিল। আন্দোলনের পর তা ৩১ জুলাই করা হয়। আবারো আন্দোলন করে তা আগস্টে নেয়া হয়েছে। এখন ইতালি সরকার মাত্র কয়েকটি খাতে বৈধকরণের সুযোগ দিয়েছে। এতে করে অন্য পেশায় কর্মরতরা পেছনে পড়ে যাবেন। তাই বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষ থেকে সবাইকেই এ সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

আরও