সংবাদপত্র শিল্পের ক্ষেত্রে বর্তমানে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ও অগ্রিম আয়কর মিলিয়ে ৩০ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া কাগজের মূল্যবৃদ্ধিসহ সার্বিক খরচ বেড়ে যাওয়া এবং করোনার প্রভাবে সংবাদপত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ শিল্পের অবস্থা ভালো নয়। এ অবস্থায় সংবাদপত্র প্রকাশ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই কর কমানোর দাবি জানিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আগামী অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনাকালে (ভার্চুয়ালি) এসব দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা। এ সময় অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) নেতারাও তাদের দাবি তুলে ধরেন। প্রাক-বাজেট আলোচনাকালে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম অনলাইনে (ভার্চুয়ালি) সভাপতিত্ব করেন। সভায় এনবিআরের সদস্য (আয়কর নীতি) মো. আলমগীর হোসেন, সদস্য (কাস্টমস পলিসি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, ভ্যাট নীতির সদস্য মো. মাসুদ সাদিক, নোয়াবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দৈনিক বণিক বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদসহ অন্যরা সংযুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি সমকাল-এর প্রকাশক এ কে আজাদ বলেন, নিউজপ্রিন্টের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৫ শতাংশ এবং অ্যাডভ্যান্স ট্যাক্স আরো ৫ শতাংশ সব মিলিয়ে ৩০ শতাংশ দিতে হয়। এটা আমাদের জন্য বহন করা খুবই অসাধ্য হয়ে পড়েছে। কারণ করোনার মধ্যে সংবাদপত্রের প্রচার বেশ কমে গেছে। এছাড়া দেশীয় কাগজ ভালো মানের নয়। সে কারণে আমদানিনির্ভরতা রয়েছে। করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করা কাগজের দামও অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, সেগুলো সংবাদপত্র শিল্প পায়নি। তাছাড়া যেহেতু সংবাদপত্র একটি শিল্প, তাই এর বেসিক কাঁচামাল আমদানি ডিউটি প্রত্যাহার করা হোক। এছাড়া আমাদের করপোরেট ট্যাক্স ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ দিতে হয়। কিন্তু বেশকিছু সেক্টরে ইনকাম ট্যাক্স রয়েছে ১৫ শতাংশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ রয়েছে। সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংবাদপত্র শিল্পের করপোরেট ট্যাক্স ১২-১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।
নোয়াবের সাবেক সভাপতি ও দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, বিভিন্ন শিল্পকে যেভাবে প্রণোদনাসহ ভ্যাট-ট্যাক্সে ছাড় দেয়া হচ্ছে, সংবাদপত্র শিল্পও একই সুবিধা দাবি করে। করোনার জন্য সংবাদপত্র সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া এটি একটি সেবামূলক শিল্প হিসেবে সরকারের সহানুভূতিশীল দৃষ্টি চাচ্ছি। কোনো সময়ে যদি সংবাদপত্র শিল্পের জন্য সরকারের সহায়তা দরকার হয়, তাহলে সেটা এখনই দরকার।
নোয়াবের প্রতিনিধিরা আরো বলেন, সংবাদপত্রের আয়ের একটি বড় উৎস হচ্ছে সরকারি বিজ্ঞাপন। কিন্তু সরকারি সংস্থা থেকে ভ্যাট কেটে আমাদের কখনো চালান দেয় না। আমরা সব সময় চালানগুলো চাই। এক্ষেত্রে এনবিআর সহায়তা দিতে পারে। সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার অথবা চালান দেয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সিনিয়র সহসভাপতি ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, সরকার চাইলে মাত্র ২০ মাসের মধ্যে ন্যূনতম তিন কোটি গ্রাহকের কাছ থেকে বছরে অন্তত ১ হাজার ৭২০ কোটি টাকা ভ্যাট বা মূসক আদায় করতে পারে। এখান থেকে আরো সমপরিমাণ আয়কর আদায়েরও সুযোগ হবে। এছাড়া দেশীয় ৪০টি চ্যানেল থেকে প্রত্যেক বছর অন্তত ৩৬ কোটি টাকা আয় করবে, যা তাদের চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে রক্ষা করবে। এ সময় তিনি টেলিভিশন সম্প্রচার খাতকে শিল্প ঘোষণারও দাবি জানান।