দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় আমদানি বৃদ্ধি ও আমদানিকৃত কাঁচামরিচের মান খারাপের কারণে দু’দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমাদনিকৃত কাঁচামরিচের দাম কমেছে কেজিতে ৭০ টাকা করে। দাম কমায় খুশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বন্দরে কাঁচামরিচ কিনতে আসা পাইকাররা। তবে দাম কমায় বিপাকে পড়েছেন বন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দর সুত্রে জানা গেছে, বন্দরে দু’দিন আগেও আমদানিকৃত প্রতি কেজি কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু আমদানি বাড়ার ফলে বর্তমানে তা কমে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা দরে। এদিকে পূর্বে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৫ থেকে ১০ ট্রাক করে কাচামরিচ আমদানি হলেও এখন তা বেড়ে ১৫ থেকে ২০ ট্রাকে পৌঁছেছে।
হিলি স্থলবন্দরে বগুড়া থেকে কাঁচামরিচ কিনতে আসা আব্দুর রহিম জানান, দেশীয় কাঁচামরিচের সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে তিনি নিয়মিত হিলি স্থলবন্দর থেকে কাঁচামরিচ কেনেন। বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি হলেও গত কয়েকদিন ধরেই দাম বেশি ছিল। তবে দু’দিন ধরে বন্দর দিয়ে আমদানি যেমন বেড়েছে তেমনি কমেছে দাম।
এদিকে, কাঁচামরিচের সরবরাহ বেড়ে দাম কমায় বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। দেশের বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় কাঁচামরিচ আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। একইভাবে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে। এতে চাহিদার তুলনায় কাঁচামরিচের সরবরাহ বেড়ে গেছে, কমে গেছে দামও। সেইসঙ্গে বৃষ্টির কারণে আমদানি ট্রাকগুলোে ত্রিপলবন্দি থাকায় কাঁচামরিচের মান খারাপ হচ্ছে। দু'দিন আগেও বন্দরে পাইকারিতে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করা কাঁচামরিচ এখন ১১০টাকা দরে ছাড়তে হচ্ছে। বাড়তি দামে কিনে কমদামে বিক্রি করায় লোকসানের মুখে পড়েছেন আমদানিকারকরা।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এম আর জামান বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। কাঁচামরিচ পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরীক্ষণ শুল্কায়নের শেষে দ্রুত খালাস দেয়া হয়। যাতে করে আমদানিকারকরা দ্রুত বাজারজাত করতে পারেন। চলতি মৌসুমে এরইমধ্যে বন্দর দিয়ে ১৬৬টি ট্রাকে ১ হাজার ৩৭৬ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।