দেড় হাজার বিদ্যালয়ে বন্ধ মাল্টিমিডিয়া ক্লাস

বরিশালে আধুনিক শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

বরিশাল জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ৫৮৮টি।

বরিশাল জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ৫৮৮টি। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে এসব বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করা হয় ২০১৮ সাল থেকে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ে তা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে আধুনিক শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। পাঠ গ্রহণে আগ্রহও কমে আসছে।

অবশ্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, সরবরাহের চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে জেলার কোনো কোনো বিদ্যালয়ের সপ্তাহে একদিন মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নেয়া হয় বলে দাবি করেছেন তারা।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে বিভিন্ন ধরনের ভিজুয়াল, অডিও এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ উপাদান ব্যবহার করে পাঠদান করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা আরো মনোযোগ সহকারে শিখতে পারে এবং শেখার প্রক্রিয়াটি আনন্দদায়ক হয়। বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের জন্য ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, তিন ধাপে ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথম ধাপে ২০১৩, দ্বিতীয় ধাপে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সর্বশেষ এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে শেষ ধাপে বরিশাল সদর উপজেলায় ১২৭, গৌরনদীতে ৪০, আগৈলঝাড়ায় ৪৭, বাবুগঞ্জে ৩৫, উজিরপুরে ৭৫, বানারীপাড়ায় ৪৫, হিজলায় ৫০, মুলাদীতে ৬৭, বাকেরগঞ্জে ৯৯ ও মেহেন্দীগঞ্জে ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে বাকি সব বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর সরবরাহ করা হয়। তবে এগুলো এখন অচল হয়ে পড়ে আছে বলে দাবি করেছেন খোদ বিদ্যালয় প্রধানরা।

নগরীর ভাটারখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিজা খন্দকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তাদের বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেন।’ তবে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহিম হোসেন জানায়, কোনোদিনই এখানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া হয়নি। তারা কখনো ক্লাস পায়নি। তবে মাঝেমধ্যে ছবি দেখায়।

মাল্টিমিডিয়ার আওতাভুক্ত বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওইসব বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের জন্য ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও ইন্টারনেট চালুর যন্ত্রপাতি অকেজো রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা অধিদপ্তরের দেয়া ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ অন্যান্য সরঞ্জাম বিদ্যালয়ে থাকলেও তা বেশির ভাগ সময় প্রশিক্ষকরা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। আর এসব দেখভালের জন্য থাকা সরকারি কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে গেলে নষ্ট বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।

তবে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার মধ্য আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাসান মাহমুদ সাঈদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ছয় মাসের মধ্যেই ল্যাপটপটি অকার্যকর হয়ে পড়ায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ল্যাপটপ মেরামত বা নতুন সরবরাহ করা হলেই ক্লাস নেয়া সম্ভব।

একই কথা বলেন হিজলা উপজেলার মাউলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষকরা বলছেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়ার জন্য ১২-২৬ দিনের যে ট্রেনিং দেয়া হয়েছে তা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য অপ্রতুল। এজন্য অন্তত ছয় মাসের ট্রেনিং প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল এমরান খন্দকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাল্টিমিডিয়ায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর জন্য সপ্তাহে একদিন করে ক্লাস নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। গণিত, ইংরেজিসহ অন্যান্য বিষয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের নির্দেশ রয়েছে। যদি কেউ মাল্টিমিডিয়া ক্লাস না নিয়ে গড়িমসি করেন, তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব দেখভাল বা তদারকির জন্য আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছেন। তার পরও কোনো সমস্যা থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও