সাতক্ষীরায় সুপারির উৎপাদন বাড়লেও কমেছে দাম

সাতক্ষীরায় এ বছর সুপারি বাগানের পরিমাণ বেড়েছে ১৫০ বিঘারও বেশি। গত বছর জেলায় সুপারি উৎপাদন হয় ১ হাজার ১২০ বিঘায়। এবার সেখানে বাগানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৪ বিঘা। একই সঙ্গে এ বছর সুপারির উৎপাদন লক্ষ্যও বেড়েছে।

সাতক্ষীরায় এ বছর সুপারি বাগানের পরিমাণ বেড়েছে ১৫০ বিঘারও বেশি। গত বছর জেলায় সুপারি উৎপাদন হয় ১ হাজার ১২০ বিঘায়। এবার সেখানে বাগানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৪ বিঘা। একই সঙ্গে এ বছর সুপারির উৎপাদন লক্ষ্যও বেড়েছে।

তবে এবার সুপারির দাম নিয়ে হতাশ জেলার চাষীরা। তাদের দাবি, গত বছর থেকে কৃষিপণ্যটির দাম কমেছে অন্তত ৩০ শতাংশ। গত বছর ভালো মানের প্রতি ১০০ সুপারি ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি করলেও এ বছর তা বিক্রি করতে হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকা দরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলার ১ হাজার ২৭৪ বিঘা বাগান থেকে ৪৫৫ টন সুপারি উৎপাদন হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২২৫ বিঘা, কলারোয়ায় ১২৭, তালায় ৪৫০, দেবহাটায় ৮২, কালীগঞ্জে ১৮০, আশাশুনিতে ৬০ ও শ্যামনগরে ১৫০ বিঘা পরিমাণ সুপারির বাগান রয়েছে। গত বছর জেলায় ১ হাজার ১২০ বিঘা বাগান থেকে সুপারি উৎপাদন হয় ৪০০ টন। এ হিসাবে এবার উৎপাদন বাড়বে অন্তত ৫৫ টন।

দেবহাটার টাউনশ্রীপুর গ্রামের সুপারিচাষী আব্দুল আবু বকর সিদ্দিকি বলেন, তার বাগানের ১৭০টি সুপারি গাছ ৩০-৩৫ বছর ধরে ফল দিচ্ছে। প্রতি বছরই তিনি ৮০-৯০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেন। এবার সুপারির ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, গত বছর পাইকারি ব্যবসায়ীরা তার বাগান থেকে প্রতি ১০০ সুপারি ১৮০ টাকা দরে কিনেছেন। কিন্তু এবার একই মানের সুপারির দাম বলছেন সর্বোচ্চ ১৩৫ টাকা।

একই গ্রামের সুপারি বাগানের মালিক নাসিম উদ্দীন বলেন, তার বসতবাড়ির বাগানে ৯০টি সুপারি গাছ রয়েছে। তিনি বছরে সুপারি বিক্রি করেন ৩৫-৪০ হাজার টাকার। কিন্ত চলতি মৌসুমে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সব গাছের সুপারি বিক্রি করে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পাবেন। এবার এখন পর্যন্ত তিনি সুপারি বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টাকার। গাছের বাকি সুপারি বিক্রি করে আরো ১০ হাজার টাকার মতো পেতে পারেন।

জেলার পাইকারি সুপারি বিক্রির অন্যতম মোকাম পারুলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী হাসান খান বলেন, সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এখন সুপারির দাম কম। তিনি বলেন, গত বছর এ সময় প্রতি ১০০ সুপারি পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১৮০-২২০ টাকায়। তবে এবার তা বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার সুপারির দাম অন্তত ৩০ শতাংশ কম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, সাতক্ষীরায় এবার সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি লাভজনক। জেলার অনেকেই এখন সুপারির বাণিজ্যিক বাগান করছেন।

আরও