ভেগান্তিতে শ্যামনগরের ৮ গ্রামের মানুষ

সেতু আছে, নেই সংযোগ সড়ক

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে চার-পাঁচ মাস আগে।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির সংযোগ সড়কে মাটিভরাটের কাজ এখনো শেষ করেনি। এতে এ সেতু দিয়ে যাতায়াত করা আট গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাঠের সিঁড়ি দিয়ে সেতু পার হয়ে যাচ্ছে উপজেলা সদরসহ হাটবাজারে।

শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে ব্রিজ-কালভার্ট প্রকল্প’ নামে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

উপজেলার ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানার খালের ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি পায় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলবেট ক‌নস্ট্রাকশন। চার মাস মেয়াদি প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়া হয় বিদায়ী অর্থবছরের নভেম্বরে। গত মার্চে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেতুর দুই পাশে সংযোগ রাস্তায় মাটিভরাট শুরু হয়নি।

সরজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি কার্যত পানিবেষ্টিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে টেংরাখালী, পার্শ্বখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী, ঠাকুরঘেরীসহ অন্তত আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সিঁড়ি দিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। বই-খাতা হাতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে তাদের এ সেতু পার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এতে সড়কের দুই পাশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এছাড়া সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য এখন প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে, কয়েকটি বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী বলেন, ‘সেতু নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। কবে সংযোগ সড়ক হবে, তা কেউ বলতে পারছে না। আবার সেতুর জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গিয়ে আমার বসতঘর খালে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ঠিকাদার ও পিআইও অফিসকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইওকে জানানো হয়েছে। তারা সরজমিনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিরাজ হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।’

এলাকাবাসীর দাবি, সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ অবসানের দাবি তাদের।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল‌বেট ক‌নস্ট্রাকশনের দা‌য়িত্বরত তপু আহ‌মেদ জানান, ইউএনও ও পিআইওর কাছ থে‌কে ১৫ দি‌নের সময় নেয়া হ‌য়ে‌ছে। শিগগিরই সেতুর সং‌যোগ সড়‌কে মা‌টিভরাটের কাজ ক‌রা হ‌বে।

শ‌্যামনগর উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুজাহান কনক ব‌ণিক বার্তা‌কে জানান, টেংরাখালী সেতু নির্মাণে সং‌শ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান‌কে তলব করা হ‌য়ে‌ছে। দু-এক‌দি‌নের ম‌ধ্যে শ‌্যামনগর ইউএনও অফিসে এসে তারা জবাব দে‌বে যে কেন কা‌জের এমন অগ্রগ‌তি। এছাড়া জনদু‌র্ভো‌গের বিষয়‌টি মাথায় রে‌খে দ্রুত কাজ শেষ করার নি‌র্দেশ দেয়া হ‌য়ে‌ছে।

আরও