শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন তালিকা ওয়েবমেট্রিক্সে টানা তৃতীয়বার দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণেও একই অবস্থান ধরে রেখেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং ২০২৬ সালের প্রথম সংস্করণের জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে মাদ্রিদভিত্তিক সংস্থাটি এ তালিকা প্রকাশ করেছে।
চলতি বছরের প্রথম সংস্করণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থান ১ হাজার ২৬২তম। এশিয়ার তালিকায় অবস্থান ৩৯৩তম। আগের বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে বিশ্ববিদ্যালয়টির বৈশ্বিক অবস্থান ছিল ১ হাজার ৪২৪তম এবং এশিয়ায় অবস্থান ছিল ৪৫৭তম।
এ বছরের তালিকায় দেশের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। এর বৈশ্বিক অবস্থান ১ হাজার ৪০১। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যার বৈশ্বিক অবস্থান ১ হাজার ৬৩৫।
দেশসেরা শীর্ষ দশে থাকা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক অবস্থান ১ হাজার ৭২৭ থেকে ২ হাজার ৪০৭ মধ্যে।
এই র্যাঙ্কিং প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষণ পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রভাব, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ভূমিকা বিবেচনায় নেয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের তথ্য, গবেষক এবং প্রকাশিত প্রবন্ধও মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ধরা হয়। দুই হাজার চার সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করছে। প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে তালিকাটি হালনাগাদ করা হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব জানান, গবেষণা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই র্যাঙ্কিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গবেষণার মান ও পরিমাণ ধরে রাখার ফলেই টানা তিনবার দেশসেরা হওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের ফলে সামনে আরো ভালো করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের পরিশ্রম ও অবদানের কারণেই এই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
উপাচার্য আরো বলেন, এই অর্জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণায় আগ্রহী করবে এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান আরো শক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।