মিলগেটেই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে সয়াবিন তেল বিক্রির অভিযোগ, একটি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

ভোজ্যতেলের বাজারে বৃহৎ অংশীদারি নিয়ে এখনো শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি কোম্পানিকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কারণ দর্শানোর চিঠি (শোকজ) পাঠিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মিলগেটেই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (এমআরপি) সয়াবিন তেল বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। আরো দুটি প্রতিষ্ঠানকে শোকজের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এমআরপি মূল্যে খুচরা দোকানগুলোতে সয়াবিন তেল বিক্রি করার নিয়ম। কিন্তু, মিল মালিকরা সে বিধান ভেঙেছেন।

ভোজ্যতেলের বাজারে বৃহৎ অংশীদারি নিয়ে এখনো শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি কোম্পানিকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কারণ দর্শানোর চিঠি (শোকজ) পাঠিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

চিঠিতে বলা হয়, সয়াবিন তেল বিক্রি ও সরবরাহের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে ভোক্তা অধিকার জানতে পেরেছে মিলগেটেই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে তেল বিক্রি করছে কোম্পানিটি। বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত নয় দাবি করে আগামী ৫ মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একই বিষয়ে আরো দুটি কোম্পানিকে শোকজ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা একটি কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আরো দুটি কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাইব। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে যাব।’

এদিকে বৃহস্পতিবার রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভোজ্যতেলের সরবরাহে কিছু ব্যবসায়ী অসহযোগিতা করছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এ সংকটের কারণ খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া বাজার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের একটি অংশ এখনো সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।’

দেশে বোতলজাত তেলের সংকট অনেক দিন ধরে চলছে। গত নভেম্বরে সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। এরপর গত ৯ ডিসেম্বর সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে আট টাকা বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। শুল্ক-কর কমানোর পরও সংকট কাটেনি। বাজারে সংকট থাকলেও বিপুল পরিমাণ সয়াবিন তেল আমদানির তথ্য রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ১৭ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে।

ভোক্তা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস, সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল ও সহকারী পরিচালক দিদার হোসেন ঢাকা মহানগরের কাওরানবাজারে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তারা দেখেন, দোকানের সহজে দৃশ্যমান স্থানে ভোজ্যতেল প্রদর্শন করা হচ্ছে না এবং ক্রেতাকে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু, তল্লাশিতে দোকানের গোপনীয় স্থানে বিপুল পরিমাণে ভোজ্যতেলের ৫ লিটারের ২০০ কার্টনের অধিক মজুদ পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদিত তেল যা ২০২৪ সালের মে থেকে অক্টোবরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, এমন ৫ লিটারের ৬ কার্টন সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উৎপাদিত ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল যার এমআরপি ৮১৮ টাকা, কিন্তু ৮৫০-৮৫২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু খুচরা ব্যবসায়ী তেল লুকিয়ে রেখে গোপনে বিক্রি করছেন, তবে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন না। এসব অপরাধে কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটের মেসার্স রামগঞ্জ জেনারেল স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, মেসার্স রতন স্টোরকে ১০ হাজার টাকা, মেসার্স নূর স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, আল আরাবিয়া গ্রোসারী অ্যান্ড চাইনিজকে ৫ হাজার টাকা, মায়ের দোয়া স্টোরকে ২০ হাজার টাকা, মেসার্স তুহিন জেনারেল স্টোরকে ৫ হাজার টাকা এবং হাজী মিজান এন্টারপ্রাইজকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার ও সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম শান্তিনগর বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার থেকে জানানো হয়, বাজারে তেলের সংকট নেই। কিন্তু, কিছু পাইকারি ও খুচরা অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা লাভের আশায় তেল লুকিয়ে রাখার কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখানো হচ্ছে। রমজানকে কেন্দ্র করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মনিটরিং কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।

আরও