গোপালগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী ১৪তম কবি সুকান্ত মেলা সমাপ্ত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাতে সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ মেলা শেষ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন এ মেলার আয়োজন করে। বুধবার (১৩ মে) সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ মেলার উদ্বোধন করেন।
তিনদিনের এ মেলা কবি, সাহিত্যিক, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। এছাড়া কবির পৈতৃক ভিটা সংলগ্ন মাঠে বসে ছিল গ্রামীণ মেলা। এ মেলায় কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য, বাহারী খেলনা ও খাদ্য পণ্যের দোকান বসেছিল। ছিল নাগরদোলাসহ বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যম।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সংগীত, শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবদানের জন্য তিনজনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।
এ সময় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জিলানী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে কোটালীপাড়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা আবৃত্তি, নৃত্য ও গীতিনাট্য চন্ডালিকার মেয়ে উপস্থাপন করেন। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিল্পীরা রাত ১১টা পর্যন্ত সংগীত পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার আনন্দ উপভোগ করেন।
কোটালীপাড়া উপজেলার ধারাবাসাইল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি মিন্টু রায় বলেন, ‘কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মের অনেক আগেই কবির পিতা নিবারণ ভট্টাচার্য উনশিয়া গ্রামের বাড়ি ফেলে কলকাতায় চলে যান। সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটের মহিম হালদার স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন। কবি পিতৃ পূরুষের উনশিয়া গ্রামের বাড়ির কথা কলকাতায় বসে মা সুনীতি ভট্টাচার্যসহ অনেকের মুখেই শুনেছেন। মানবতাবাদী কবির কাছে এ পৈতৃক ভিটা ছিল পরম শ্রদ্ধার বস্তু। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কবি পরলোক গমন করেন।’
বাংলাদেশ স্বাধীনের পর কবির পৈতৃক ভিটা দখল হয়ে যায়। সরকার সেখান থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করে। এরপর গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ওই ভিটায় লাইব্রেরী কাম অডিটোরিয়াম নির্মাণ করে দেয়া হয়। নতুন প্রজম্মের কাছে কিশোর কবির ত্যাগ, আদর্শ, চেতনা ও সংগ্রামী জীবনকে ছড়িয়ে ১৪ বছর আগে থেকে মেলার আয়োজন করা হয়ে আসছে। মেলায় কবি, শিল্প-সাহিত্য সংশ্লিষ্টদের আড্ডা বসে। আলোচনা, স্বরচিত কবিতা ও সুকান্তের কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে আড্ডা জমজমাট হয়ে ওঠে। আয়োজন করা হয় বাউল, জারি, কবি গান , পালা গান, যাত্রাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘আগামীতে এ মেলার আয়োজন অব্যাহত থাকবে। সেটি আরো নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন প্রজম্মের কাছে কবিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হবে।’