সিরাজগঞ্জে প্রস্তুত ৩৫০ কোটি টাকার পশু

ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই সিরাজগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে যেন বইছে কোরবানির আমেজ।

জেলার ছোট-বড় খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কোথাও গরুর খাবার মাপছেন খামারি, কোথাও চলছে গোসল করানো কিংবা পরিচর্যা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কর্মব্যস্ততা। অধিক লাভের আশায় পরিবারের সদস্যদের নিয়েই গরু মোটাতাজাকরণে সময় কাটাচ্ছেন জেলার হাজারো খামারি।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার সিরাজগঞ্জে প্রায় ১৭ হাজার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ ষাঁড় রয়েছে। এসব পশুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। আর জেলার স্থানীয় চাহিদা রয়েছে মাত্র ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৬টি। অর্থাৎ, চাহিদা পূরণের পরও প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির বাজারে সরবরাহ করা হবে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। শুধু জেলার চাহিদা পূরণ নয়, প্রতি বছরের মতো এবারো সিরাজগঞ্জ থেকে পশু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাটে যাবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পাওয়ায় খামারিরা পশু পালনে উপকৃত হচ্ছেন। এবার কোরবানির হাটে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর চাহিদা বেশি থাকবে বলে আশা করছেন খামারিরা।

সরজমিনে জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, খৈল, ভুসি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। অনেক খামারেই এখন ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৪টি গরু, ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০টি ছাগল ও ৪৭ হাজার ৭২৪টি ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও সদর উপজেলায় পশু উৎপাদনের হার সবচেয়ে বেশি।

ছোঁয়া মনি ডেইরি ফার্মের পরিচালক আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘কোরবানির বাজার সামনে রেখে খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে গরু পালন করা হয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম করে পরিচর্যা ও ভালো মানের খাবার দেয়া হচ্ছে গরুগুলোকে। আমরা কোরবানির জন্য ক্রেতাদের হাতে নিরাপদ, ভালো মানের ও স্বাস্থ্যকর গরু তুলে দিতে চাই।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আনোয়ারুল হক বলেন, জেলার ৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিরাপদ মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকিও চলছে। তিনি বলেন, ‘ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটা চ্যালেঞ্জে থাকে। এ বছর দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে স্থানীয়ভাবে পালিত পশু দিয়েই জেলার কোরবানির চাহিদা মেটানো হবে।’

আরও