বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দেশের প্রয়োজন বিবেচনায় উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বিমানবহর বাড়ানোর পাশাপাশি মিশ্র বহর গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় আন্তঃসরকারী সংস্থাগুলোর সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম এবং জন কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ. কে. এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
বোয়িং ক্রয় চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনব। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। তবে আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন আছে।
তিনি বলেন, রুট বাড়াতে হলে, এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন। এখন বোয়িং কিনছি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্লেনের ফ্লিট অনেক বাড়ানো দরকার। এটা কিছুই না।
চুক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। গোপন এজেন্ডার কোনো প্রশ্নই আসে না। এটা প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। উন্মুক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়টি হয়েছে। আপনাদের সঙ্গে তা শেয়ার করা হয়েছে।
প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরো উড়োজাহাজ কেনার কথা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরো বিমান কিনতে পারি। আমরা প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এটা করব। কাউকে খুশি করার জন্য আমরা বোয়িং বা কোনো কিছু কিনি না। বাংলাদেশ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে এভিয়েশন হাব হতে যে প্রয়োজন, সে প্রয়োজনের ভিত্তিতেই বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
বোয়িংয়ের সঙ্গে সর্বশেষ চুক্তির বিষয়ে এর আগে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১টি অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সময় নিউইয়র্কে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির মূল্য ছিল ৩৭০ কোটি ডলার। সর্বশেষ ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরো এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেন।