‘স্থিতিশীল’ থেকে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করল এসঅ্যান্ডপি

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের সভরেন ক্রেডিট রেটিং (সার্বভৌম ঋণমান) অবনমনের পাশাপাশি ঋণমান নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক বার্তা দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস (আউটলুক) ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘বি প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘বি’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ অবনমন করেছিল এসঅ্যান্ডপি। ওই সময় দেশের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং ‘বিবি মাইনাস’ থেকে ‘বি প্লাস’-এ নামিয়ে দেয়া হয়। সে সময় সংস্থাটি ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ রেখেছিল। গত সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করে দিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ইঙ্গিত দিয়েছে যে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং আরো এক ধাপ কমে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এসঅ্যান্ডপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করে দেয়া হয়েছিল। এর এক বছরের মাথায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ অবনমন করা হয়েছিল।

এসঅ্যান্ডপি এবার তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ব্যাংক খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের একটি কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের অনিশ্চয়তা নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ অবস্থায় বহির্বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবাসী আয় শক্তিশালী থাকা, তৈরি পোশাক খাতের পুনরুদ্ধার এবং বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার ওপর।

এসঅ্যান্ডপি ছাড়া মুডি’স এবং ফিচ রেটিংসও ২০২৩ সাল-পরবর্তী সময়ে একাধিকবার বাংলাদেশের ঋণমান অবনমন করার পাশাপাশি পূর্বাভাস নেতিবাচক করেছে। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফিচ রেটিংস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘ঋণাত্মক’ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তিন ঋণমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান—এসঅ্যান্ডপি, মুডি’স ও ফিচ রেটিং—একত্রে ‘বিগ থ্রি’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের ক্রেডিট রেটিং বাজারের বেশির ভাগ এ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এ তিন প্রতিষ্ঠানের রেটিংয়ের ওপর কোনো দেশের অর্থনীতির দৃঢ়তা, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্য আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পায়।

এসঅ্যান্ডপির বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস নেতিবাচক করা বিগত আমলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের ধারাবাহিকতা বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। বণিক বার্তাকে গতকাল তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির যেসব চ্যালেঞ্জ ও সংকটের ওপর ভিত্তি করে এসঅ্যান্ডপি বাংলাদেশের সার্বভৌম রেটিং ও পূর্বাভাস দিয়েছে, সেগুলো আমরা ফ্যাসিবাদী আমলের সূত্রে পেয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি, অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে। এরই মধ্যে বেশকিছু সূচকে উন্নতি দেখা গেছে। ব্যাংক খাতসহ এসঅ্যান্ডপি যেসব চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে, সেগুলো সংস্কারে উদ্যোগ চলমান রয়েছে।’

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির মন্থরতাসহ অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সোমবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এসঅ্যান্ডপি বলেছে, গত তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং তৈরি পোশাক রফতানির অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে আগামী তিন বছরে দেশের গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার শক্তিশালী জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এসঅ্যান্ডপির আউটলুক ‘নেতিবাচক’ হওয়া উদ্বেগের, আবার ‘বড় সুযোগ’ও বলে মনে করেন ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। সিটি ব্যাংকের এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসঅ্যান্ডপির আউটলুক “‍নেগেটিভ” হওয়া অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। তবে এটাকে পজিটিভ দিক থেকেও দেখা যায়। আগামী ১২-২৪ মাসে অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের ঝুঁকি মোকাবেলায় যেন আমরা আরো কার্যকর সংস্কারের দিকে এগোই, এটা সেই দরকারি বার্তা। অবশ্যই এতে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে একটু বাড়তি সতর্কতা তৈরি হবে। ফলে বৈদেশিক ঋণের খরচ ও ট্রেড ফাইন্যান্সের দাম একটু বাড়তে পারে। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও বৈদেশিক খাতের উন্নতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আউটলুক উন্নত করার বড় সুযোগ তৈরি হলো।’

এসঅ্যান্ডপির ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব থেকে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বের হতে পারেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা। কয়েকটি ব্যাংকের দুর্বল সম্পদমান ও উচ্চ খেলাপি ঋণ মোকাবেলায় পুনর্গঠন কার্যক্রম চালালেও এর সুফল এখনো দৃশ্যমান নয়। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে মূল্যস্ফীতিও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয় মানুষের প্রকৃত আয় ও ভোগ সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এতে অভ্যন্তরীণ ভোগনির্ভর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এসঅ্যান্ডপির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ২ হাজার ৭৫০ ডলার। তুলনামূলক কম মাথাপিছু আয় এখনো দেশের ঋণমানের অন্যতম সীমাবদ্ধতা। যদিও অতীতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এ দুর্বলতাকে অনেকটাই সামাল দিয়েছিল। প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের গত ১০ বছরের গড় প্রকৃত মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে, যেখানে ২০২২ সালে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সমমানের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিগত সুবিধা কমে যাবে এবং ঋণমানের ওপর চাপ বাড়বে।

ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখনো কম শ্রম ব্যয় ও পর্যাপ্ত শ্রমশক্তির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এ খাতের রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো সংস্কারের সুফল পেতে সময় লাগবে।

এসঅ্যান্ডপি বলছে, বাংলাদেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র কত শুল্ক আরোপ করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। বাংলাদেশের পণ্য রফতানি এখনো মূলত তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। দেশের মোট পণ্য রফতানির ৮৫ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। শুল্ক নিয়ে এ অনিশ্চয়তার কারণে রফতানি ব্যাহত হতে পারে।

নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা বাড়তে পারে বলে মনে করে এসঅ্যান্ডপি। নতুন সরকার বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি, মধ্যম মেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছে।

তবে এসঅ্যান্ডপির মূল্যায়নে বাংলাদেশের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এসব সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী প্রবাসী আয়, তৈরি পোশাক খাতের পুনরুদ্ধার ও বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক সহায়তা বাংলাদেশের বৈদেশিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন আইএমএফ কর্মসূচির কারণে রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের সংস্কার ত্বরান্বিত হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্তিশালী হতে পারে।

এসঅ্যান্ডপি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্রবাসী আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে তৈরি পোশাক রফতানিতে দুর্বলতা ও উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে আগামী কয়েক বছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা বাড়তে পারে।

তবে এক্ষেত্রে ঝুঁকিগুলোও তুলে ধরা হয়। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়লেও চলতি হিসাব আবার মাঝারি ঘাটতিতে ফিরতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এ ঝুঁকি আরো বাড়বে। একই সঙ্গে কার্যকর রাজস্ব সংস্কার না হলে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপও উচ্চ পর্যায়ে থাকবে।

সংস্থাটির মূল্যায়ন হলো বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের ওপর নির্ভরশীল। এতে ঋণ কাঠামোর ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। সরকারের চাওয়া নতুন আইএমএফ কর্মসূচিতে রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের সংস্কার অন্তর্ভুক্ত হলে তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে অঞ্চলটি থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বহিঃখাত নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে।

এসঅ্যান্ডপির পূর্বাভাস, আগামী তিন বছরে আমদানি স্বাভাবিক হওয়া এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্যের প্রভাবে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ১ দশমিক ৭ থেকে ২ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছতে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় আমদানির চাহিদা বাড়বে। ঋণনির্ভর রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ায় বৈদেশিক তারল্য সূচক কিছুটা দুর্বল হবে। আগামী তিন বছরে মোট বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন চলতি হিসাবের আয় ও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের সম্মিলিত পরিমাণের গড়ে প্রায় ১০২ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

চলতি বছরের শুরুতে সরকার আগের আইএমএফ কর্মসূচি থেকে সরে এলেও জুলাইয়ে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইএমএফ মনে করছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আরো মন্থরগতি ঠেকাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করা এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে এসঅ্যান্ডপির মূল্যায়ন হলে নতুন একটি আইএমএফ-সমর্থিত ঋণ কর্মসূচি সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের সহায়তাও আরো সুসংহত করবে। গত তিন বছরে এ ধরনের সহায়তা বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অর্থনীতির সামগ্রিক পর্যালোচনা করে এসঅ্যান্ডপি ঋণমানের পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি যেসব বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা বলেছে, সেগুলো আমাদেরও উদ্বেগের বিষয়। ব্যাংক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বিস্তৃত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য আমরা পুনঃতফসিল ও এক্সিট পলিসি দিয়েছি। এটি কমলে দেশের ব্যাংক খাতের বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আর সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছি। অর্থনীতি প্রণবন্ত হওয়ার পাশাপাশি সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে এসঅ্যান্ডপিসহ অন্য ঋণমান সংস্থাগুলোর দৃষ্টিতে বাংলাদেশের সভরেন ক্রেডিট রেটিংও বাড়বে।’

আরও