আইসিডিডিআরবি ও এনআইএনএস গবেষণা

দেশে প্রতি ১২ ষাটোর্দ্ধদের ১ জন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত

দেশে প্রতি ১২ জন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির মধ্যে একজনের ডিমেনশিয়া দেখা গেছে। আর মহিলাদের মধ্যে সমবয়সী পুরুষদের তুলনায় ডিমেনশিয়ার প্রকোপ আড়াই গুন বেশি। ‘বাংলাদেশের প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ব্যাপকতা’ শিরোনামের একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক উদারময় গবেষণা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স অ্যান্ড হসপিটাল এ গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় এক ভাচ্যুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

দেশে প্রতি ১২ জন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির মধ্যে একজনের ডিমেনশিয়া দেখা গেছে। আর মহিলাদের মধ্যে সমবয়সী পুরুষদের তুলনায় ডিমেনশিয়ার প্রকোপ আড়াই গুন বেশি। ‘বাংলাদেশের প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ব্যাপকতা’ শিরোনামের একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক উদারময় গবেষণা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স অ্যান্ড হসপিটাল এ গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় এক ভাচ্যুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। 

গবেষণায় বলা হয়, অন্যান্য বিভাগের তুলনায় রাজশাহী (১৫ শতাংশ) এবং রংপুরে (১২ শতাংশ) ডিমেনশিয়ার প্রকোপ বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যারা কখনও স্কুলে যায়নি এবং যাদের স্ত্রী বা স্বামী নেই সামগ্রিকভাবে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ তাদের মধ্যে অন্যদের চেয়ে বেশি দেখা গেছে।    

ডিমেনশিয়া এমন একটি সিনড্রোম যেক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপ সমপাদন করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষের ডিমেনশিয়া রয়েছে। এর ৬০ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বসবাস করে।

২০১৯ সালে সাতটি বিভাগে শহুরে এবং গ্রামীণ অঞ্চলের ২ হাজার ৭৯৬ জন ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব  বয়সীদের মধ্যে গবেষণা চালানো হয়। এই জরিপের মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ডিমেনশিয়া এবং প্রধান অসংক্রামক রোগ বিস্তারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই গবেষণায় বয়স্ক ব্যক্তিদের ডিমেনশিয়ার  প্রকোপ, অঞ্চল ভিত্তিক এর ভিন্নতা এবং স্বাস্থ্য সেবার ধরন পর্যালোচনা করা হয়েছে। 

গবেষণায় বলা হয়, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৫২ শতাংশ হাইপারটেনশন, ৫৪ শতাংশ হতাশা এবং ৮ শতাংশ ডায়াবেটিসসহ এক বা একাধিক দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা ছিল। আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি পুষ্টির অভাব (৩৫ শতাংশ কম ওজন), স্বল্প শারীরিক ক্রিয়াকলাপ (৪৯ শতাংশ), উচ্চমাত্রায় লবণ গ্রহণ (৫৬ শতাংশ) এবং উচ্চমাত্রায় তামাক সেবন (৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ) করতে দেখা গেছে যা সাধারণত অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির কারণ। 

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ৯০ শতাংশ গত ৬ মাসে স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব রোগীদের ১২ শতাংশ চিকিত্সার জন্য বেসরকারী হাসপাতাল এবং সাড়ে পাঁচ শতাংশ সরকারী হাসপাতালের যাওয়ার চেয়ে ঔষধ বিক্রেতার  শরানাপন্ন হন। এক্ষেত্রে নগর বা গ্রামীন এবং লিঙ্গভিত্তিক কোন পার্থক্য দেখা যায়নি। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিনের সভাপতিত্বে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ, জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। 

তথ্য বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে মোট ডিমেনশিয়া রোগের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ। এর মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার পুরুষ এবং ৮ লাখ ৮ হাজার নারী। ২০২৫ সালে এই সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ লাখ ৭০ হাজারে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে এটি দ্বিগুণেরও বেশি হবে। এখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেয়া হলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে গবেষকরা আশঙ্কার কথা জানান। 


আরও