রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হয়ে যাবে।
গতকাল ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম’ এর আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতির ওপর জনগণের আস্থা কম এটা সত্য। রাজনীতিবিদদের নিজেদেরই সে আস্থা ফেরাতে হবে এবং এটা করতে হবে জবাবদিহিতার মাধ্যমে। এনজিও ও বেসরকারি খাতকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান, গণফোরাম সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, বরিশাল-৫ আসনে বাসদের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম প্রমুখ।
আমীর খসরু বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের কমিটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়ায়। সেটা না করে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। সিভিল সোসাইটিকে কার্যকর করতে হবে। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের পাশাপাশি অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ অত্যন্ত জরুরি। এর সুফল শ্রমিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ পাবে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে অনানুষ্ঠানিক সব ধরনের শ্রমের ক্ষেত্রে সহায়তা করা হবে। থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট, স্পোর্টস ইকোনমি করতে চাই। এগুলো সবকিছুই হবে উৎপাদনমুখী ও অর্থনীতিভিত্তিক। মেগা মেগা প্রকল্প করে দেশের উন্নয়ন দেখাতে চাই না, দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়তে চাই, এর মাধ্যমে দেশের মানুষের আয় বাড়াতে চাই, নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চাই।’
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা সংশয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে এ নির্বাচনে কার কথা স্থান পাবে? আগের সে ধারা কি অব্যাহত থাকবে?”দেশের বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে নির্বাচন এখন একটি অপরিহার্য বিষয়ে পরিণত হলেও এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও তা কি অর্থবহ হবে? আমরা কি প্রকৃত কোনো পরিবর্তন পাব, নাকি আবার সে পুরনো গড্ডলিকা প্রবাহে প্রবেশ করব?’
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, ‘গত ১৫ বছরে মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন, দুর্নীতি এবং নাগরিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার ফলে দেশে একটি গভীর শাসনতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়েছিল। এ কর্তৃত্ববাদ, ভয়ভীতি ও জবাবদিহিহীনতার বিরুদ্ধেই জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান ঘটে। এটি ছিল সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার একটি ধারাবাহিক প্রকাশ।’
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনী বাস্তবতা ছোট দলগুলোর জন্য কঠিন। সাংগঠনিক সক্ষমতা না থাকায় বড় দলের সঙ্গে জোটে যেতে হয়েছে।’ সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সমান্তরালভাবে সংস্কার করতে হবে।’
তাসনিম জারা বলেন, ‘বিদ্যমান গণতান্ত্রিক কাঠামোয় জবাবদিহিতার জায়গাটা অনেক দুর্বল। সব জায়গায় জটিলতা বিদ্যমান। যে যার জবাবদিহি করবে, সেই তার নিয়োগকর্তা। জনগণ পরিবর্তন চায়। তারা পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আর গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়।’
অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, ‘ভারত, নেপাল, শ্রীলংকার চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। যারা নির্বাচনে হারে তারাই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে। রাষ্ট্রক্ষমতায় যারাই যাবে, নাগরিক সমাজ যাতে সে ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে, সে আশা করব।’