খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠেছে জামায়াত সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একজন নারীকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় দাকোপ থানা ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগের পর দাকোপ উপজেলা সদরসহ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে দাকোপ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রকাশ বোস বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দাকোপ উপজেলা শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু সাইদের প্রতীক হাতপাখার লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণার সময় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দাকোপ উপজেলার লক্ষ্মীখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ১২ থেকে ১৩ জন নারী কর্মী প্রচারণায় অংশ নেন।
অভিযোগে বলা হয়, নারী কর্মীরা একটি বাড়িতে ঢোকার পর সেখানে তাদের আটকে রেখে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে মারধর করা হয়। এতে কয়েকজন নারী আহত হন। গুরুতর আহত রোজিনা বেগমকে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মারধরের সময় স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোজিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আমরা ইলিয়াস হোসাইনের বাড়িতে গিয়ে হাতপাখার কথা বলি। তখন তারা বলে, তারা দাঁড়িপাল্লার লোক, আমরা সেখানে কেন গেছি। আমাদের ১১ জনকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গালিগালাজ করা হয়। পরে আমাদের কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়, ফোন নিয়ে নেয়। আমার ওড়না ও বোরকা খুলে ফেলে।‘
আরেক নারী কর্মী হাফসা বেগম বলেন, ‘আমরা কয়েক দিন ধরে প্রচারণা চালাচ্ছি। মঙ্গলবার আমাদের পাড়ায় প্রচারণার সময় এ ঘটনা ঘটে। ইলিয়াস হোসাইনের বাড়িতে আরো কয়েকজন আমাদের হেনস্তা করেছে, শারীরিক নির্যাতন করেছে।‘
এ বিষয়ে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু সাঈদের বাবা মো. আলী হায়দার শেখ জানান, নারী কর্মীদের হামলাকারী ইলিয়াস হোসাইন আগে ইসলামী আন্দোলনের দাকোপ উপজেলা সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাকে পদ থেকে সরানো হয়। পরে উপদেষ্টা করা হয়। আরো পরে তিনি দল ছাড়েন এবং এখন জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় আছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইলিয়াস হোসাইন বলেন, ‘তারা পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে নারী কর্মীদের পাঠিয়েছিলেন। একটা পর্যায়ে আমার স্ত্রীসহ অন্যদের সঙ্গে তর্ক হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাকে হেয় করার জন্য ওই সব নারী কর্মীর কথা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।‘
তিনি আরো বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বর মাসে আমি ইসলামী আন্দোলন থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। আমি জামায়াতের কর্মী নই, তবে সমর্থক।‘