স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ‘১১তম চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন ২০২৬’। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রায় ৫৮টি স্কুলের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছে। এবারের সম্মেলনে ১২৮টি গবেষণাপত্র ও ধারণাপত্র উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি ভেন্যুতে এসব গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হচ্ছে। সম্মেলনের বাংলা গণমাধ্যম সহযোগী বণিক বার্তা এবং ইংরেজি গণমাধ্যম সহযোগী দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘চিন্তার চাষ’-এর সভাপতি আইনজীবী মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সম্মেলনের আহ্বায়ক ও চিন্তার চাষের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, উচ্চশিক্ষায় গবেষণার উন্নয়নে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে। আজকের আয়োজনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের গবেষক হবে। তারা দেশের অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। ক্ষুদে গবেষকদের নিয়ে তিনি নিজের আশাবাদের কথা জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন আগে দেখা যায়নি। দেশের উন্নতির যে স্বপ্ন দেখা হয়, তরুণ গবেষকদের হাত ধরে তা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতির মধ্যেও মৌলিক গবেষণার চর্চা ধরে রাখা দরকার। মৌলিক গবেষণার মাধ্যমেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।
দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক বলেন, বর্তমান প্রজন্ম গবেষণার যে সুযোগ পাচ্ছে, তা তাদের মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে চিন্তার চাষের সভাপতি জানান, স্কুল পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ ছড়িয়ে দিতে ১১ বছর ধরে এই কাজ চলছে। ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে। আজকের শিক্ষার্থীরা দারুণ সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে।
সম্মেলনে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়েছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গৃহস্থালির সবজির উচ্ছিষ্ট থেকে জৈব সার তৈরি ও গাছের বৃদ্ধিতে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা বিষয়ক গবেষণা উপস্থাপন করে।
গবেষণা দলের দায়িত্বে থাকা প্রভাষক মো. আবু রায়হান জানান, এতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছে। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এ জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।