টিএসসি অডিটোরিয়ামে অর্থ উপদেষ্টা

ঢাবিকে গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উপযুক্ত সময় এখনই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের এখনই উপযুক্ত সময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেছেন, ‘‌বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব জ্ঞান সৃষ্টি, পাঠদান তার পরের বিষয়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে, তবে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

ঢাবির টিএসসি অডিটোরিয়ামে গতকাল আয়োজিত ঢাকা ইউনিভার্সিটি কেমিস্ট্রি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘পঞ্চম বার্ষিক সাধারণ সভা ও পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি কেমিস্ট্রি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোফাজ্জল হোসাইন এবং কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, ‘‌স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার যে প্রবণতা ছিল, তা গত প্রায় দেড় দশকে তুলনামূলকভাবে কমেছে। বিশ্বজুড়ে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি অনীহাও একটি বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার বিকল্প নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌দেশে শিক্ষক সমাজকে প্রাপ্য সম্মান ও ন্যায্যতা দেয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মূল্যবোধভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা কমে যাওয়া এ সংকটের অন্যতম কারণ।’

অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, ‘‌বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে সংহতি, প্রগতি ও অগ্রগতিনির্ভর রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘‌রসায়ন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত; রসায়ন ছাড়া পৃথিবী কল্পনা করা যায় না। জ্ঞান ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে আলোকিত করছে, আর রসায়ন বিভাগ সেই অগ্রযাত্রার অন্যতম শক্তি।

উপাচার্য বলেন, ‘অ্যালামনাইরা বিভাগের প্রাণশক্তি। তারা যত বেশি সম্পৃক্ত হবেন, বিভাগ তত বেশি সমৃদ্ধ হবে। ইউজিসি ও বিভাগীয় অর্থায়নের পাশাপাশি অ্যালামনাইদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিভাগীয় উন্নয়ন ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘এ ধরনের পুনর্মিলনী আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিকে পুনর্জাগরিত করে।’

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা খাতের মান অবনতির ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয় পক্ষের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার অবস্থাকে তিনি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়ন, গবেষণা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও